জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকদের ধর্মঘটকে সমর্থন জানিয়ে ঘোষণা ছাড়াই চিকিৎসা সেবা বন্ধ রেখেছে জেলার বেসরকারি হাসপাতালগুলো। এছাড়া চিকিৎসা বন্ধ রেখেছে জেলার ৬টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো। তবে সরকারি সকল হাসপাতালে অন্তঃবিভাগ ও জরুরি বিভাগ চালু রয়েছে বলে জানিয়েছে সিভিল সার্জন কার্যালয়।
হঠাৎ পুরো জেলায় চিকিৎসা সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে জেলার কয়েক হাজার রোগীকে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শীত জনিত রোগে আক্রান্ত শিশু ও বৃদ্ধ রোগী এবং তাদের স্বজনরা।
সোমবার (২৮ ডিসেম্বর) দুপুরে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় জরুরি বিভাগের চিকিৎসা সেবা অব্যাহত থাকলেও বহির্বিভাগে কোনও চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী না থাকায় ভুতুড়ে পরিবেশ তৈরি হয়েছে। হাসপাতালে এসে চিকিৎসক না পেয়ে ফেরত যাচ্ছেন শত শত রোগী ও তাদের স্বজনরা। এছাড়া অন্তবিভাগে রোগীদের গণহারে ছুটি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মাহফুজুর রহমান সোহান বলেন, শুক্রবার দুপুরে এক নারী রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় তার স্বজনরা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কমর্রত চিকিৎসক ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর হামলা ও মারধর এবং জরুরি বিভাগের সরকারি সম্পত্তি বিনষ্ট করে। এ ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ডাক্তার ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর নির্যাতন এবং জামালপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমানকে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করে। পুলিশ এক চিকিৎসক ও সাত ইন্টার্ন চিকিৎসককে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মকলেছুর রহমানকে প্রধান করে ৭ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। সোমবার বিকাল ৪টায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা। তদন্ত প্রতিবেদন দেখে পরবর্তীতে চিকিৎসক নেতৃবৃন্দ কর্মসূচি ঘোষণা করবেন বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, শুধু বহির্বিভাগে চিকিৎসা সেবা বন্ধ। কিন্তু অন্তবিভাগ এবং জরুরি বিভাগ চালু রয়েছে। এছাড়া প্রসূতি মায়েদের জরুরি সেবা প্রদান চালু রয়েছে বলেও জানান তিনি।