ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে শয্যা বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে করোনা ও উপসর্গ নিয়ে ২৯৬ জন রোগী ভর্তি আছেন। রোগীর চাপ সামলাতে করোনা ইউনিটে আরও ৮৬ শয্যা বাড়িয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নয়টি শয্যা বাড়ানো হয়েছে। এ নিয়ে আইসিইউতে শয্যা সংখ্যা দাঁড়ালো ২২টি।
সোমবার (৫ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করে হাসপাতালের করোনাবিষয়ক ফোকাল পারসন ডা. মহিউদ্দিন খান মুন জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন করোনা ও উপসর্গ নিয়ে রোগী ভর্তি হচ্ছে। ২১০ শয্যার করোনা ইউনিটে রোগীর চাপ সামলানো মুশকিল হয়ে পড়েছে। হাসপাতালের পরিচালক, সিনিয়র চিকিৎসক ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরামর্শ করে শয্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে নতুন ভবনের তৃতীয় ও চতুর্থ তলার সাধারণ ওয়ার্ডের রোগীদের পুরনো ভবনে স্থানান্তর করে করোনা ইউনিটের আওতায় শয্যা বাড়ানো হয়।
তিনি আরও জানান, জটিল রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় আইসিইউ শয্যায় চাপ বাড়ছে। এ কারণে নয়টি বাড়িয়ে ২২ শয্যা করা হয়েছে। এরপরও আইসিইউতে শয্যার চাহিদা রয়েছে রোগীর স্বজনদের।
ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. ফজলুল কবীর বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় করোনা ইউনিটে শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। হাসপাতালে ওষুধসহ সেন্ট্রাল অক্সিজেন সাপ্লাইয়ের কোনও সমস্যা নেই।
তিনি আরও বলেন, চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীদের আন্তরিকতায় হাসপাতালে সুন্দরভাবেই চিকিৎসা সেবা চলছে। তবে যে হারে করোনা শনাক্ত বাড়ছে, তাতে ভবিষ্যতে চিকিৎসা দেয়ার ব্যাপারে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে করোনা ও উপসর্গ নিয়ে ১৫ জন মারা গেছেন। তাদের মধ্যে ছয় জন করোনা আক্রান্ত ছিলেন।
সোমবারের তথ্য অনুযায়ী, করোনায় মৃতদের মধ্যে ময়মনসিংহের তিন জন, নেত্রকোনার দুই জন ও টাঙ্গাইলের একজন রয়েছেন। আর উপসর্গ নিয়ে ময়মনসিংহের পাঁচ জন, শেরপুর-টাঙ্গাইল-সুনামগঞ্জ ও জামালপুরের একজন করে রোগী মারা গেছেন।