গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার মাত্র আধা কিলোমিটার দূরে পাগলা বাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, প্রকাশ্যে জুয়ার আসর বসেছে। দিনে-রাতে এখানে চলছে আন্তঃজেলা জুয়ার আসর।
অভিযোগে জানা যায়, জুয়ার আসর থেকে পুলিশ প্রতিদিন নির্দিষ্ট হারে ‘তোলা’ (নির্বিঘ্নে জুয়া পরিচালনার জন্য প্রদত্ত অর্থ) আদায় করেন। সবচেয়ে বড় কথা হলো, শিশুদের সামনেই চলছে এইসব জুয়া খেলা। কোনও কোনও আসরে আবার জুয়াড়িরা বিভিন্ন কাজে জন্য ব্যবহার করছেন শিশুদের। বর্তমানে এখানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির হয়েছে চরম অবনতি। প্রায় প্রতিরাতেই চুরি- ডাকাতি ও ছিনতাই হচ্ছে। জুয়ার কারণে বেড়েছে পারিবারিক সহিংসতা ও কলহ। বেড়েছে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদের ঘটনাও।
পাগলা থানার ওসি মো. চান মিয়া এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমার কাছে জুয়া খেলা সর্ম্পকে কোনও অভিযোগ নেই। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।’
এলাকা ঘুরে আরও জানা যায়, বছর তিনেক হয় পাগলা থানা হয়েছে। গফরগাঁও উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন নিয়ে এ থানা। পুলিশের সঙ্গে যোগসাজসে প্রতিদিন কমপক্ষে ৮টি স্পটে জুয়ার আসর চলছে। এসব জুয়ার আসর থেকে পুলিশ বখরা আদায় করে। গত বছর শেউলি গ্রামে জুয়ার আসরে স্থানীয় লোকজন হামলা চালায়। এসময় একজন পুলিশ সদস্যকে জুয়ার আসর থেকে আটক করা হয়। এই এলাকাকে অনেকে জুয়ার থানা হিসেবে চেনে। সম্প্রতি নতুন ওসি চান মিয়া যোগদানের পর থেকেই জুয়ার আসরের সংখ্যা বেড়েছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসীর অভিযোগ।
সরেজমিন পাগলা এলাকা ঘুরে দেখা গেছে এর ভয়াবহ চিত্র। জুয়ার চক্রটি কাইট খেলা ও থ্রি কার্ড জুয়ার আসর চালু করেছে। প্রতিদিনই এই আসরে শতাধিক যুবকসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ জুয়া খেলছে। এই এলাকার লোকজন ছাড়াও উপজেলার
এদিকে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মাহফুজুল হক নুরজ্জামান পিপিএম বেশ কয়েকবার ময়মনসিংহ জেলায় এসে পুলিশ বিভাগকে জুয়ার আসর বন্ধের নির্দেশ দিলেও পাগলা থানা পুলিশ এক্ষেত্রে বেপরোয়া।
ওসি চান মিয়া বলেন, ‘ভ্রাম্যমাণ জুয়ার আসর বন্ধ করা কঠিন।’
/জেবি/এফএ/