করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় ১২ সেপ্টেম্বর থেকে খুলে যাচ্ছে দেশের সব স্কুল-কলেজ। সরকারি এমন ঘোষণায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে ময়মনসিংহের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালনার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে কাজ চলছে। তবে করোনা পরিস্থিতির মধ্যে দীর্ঘদিন পর প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া ও পাঠদানের বিষয়টিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন শিক্ষকরা। অবশ্য শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রতিষ্ঠানে পাঠদানের বিষয়টি বাস্তবায়নে মনিটরিং করা হবে।
জেলা শিক্ষা বিভাগের তথ্য মতে, জেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয় ২১৪০টি, মাধ্যমিক পর্যায়ে সরকারি ও বেসরকারি স্কুল আছে ৬১৮টি, উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে কলেজ ৭৭টি ও মাদ্রাসা আছে ৩৮৮টি।
সরেজমিন সোমবার (৬ সেপ্টেম্বর) মহানগরীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে দেখা যায়, ক্যাম্পাসসহ শ্রেণিকক্ষের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে। অনেক প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের হাত ধোয়ার জন্য বেসিন বসানোসহ নানা ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শ্রেণিকক্ষের বেঞ্চের বিন্যাসে কাজ করতে দেখা গেছে শিক্ষকদের।
তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া চালিয়ে যেতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তবে করোনা মহামারিতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান নিশ্চিত করা শিক্ষকদের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নগরীর রয়েল মিডিয়া রেসিডেন্সিয়াল কলেজের অধ্যক্ষ স্নেহাশীষ চন্দ্র দে জানান, স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্লাস চালানোর জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। কলেজে আসার সময় মাস্ক পরা নিশ্চিত করা হবে। ইতোমধ্যে হাত ধোয়ার জন্য বেসিন বসানো হয়েছে এবং পাশে সাবান রাখা হবে। এছাড়া স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে কিনা তা দেখার জন্য শিক্ষকদের দিয়ে একটি মনিটরিং কমিটি করা হয়েছে।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার জন্য প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্লাস পরিচালনার বিষয়টি বাস্তবায়নে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে কঠোর মনিটরিংয়ের আওতায় আনা হবে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের ময়মনসিংহ বিভাগীয় পরিচালক প্রফেসর মো. আজহারুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ১২ সেপ্টেম্বর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সরকারি ঘোষণা বাস্তবায়নে সবাইকে সঙ্গে কাজ চলছে।