সংযোগ অচল হলেও বিল সচল

বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) সেবা না পেয়েও শেরপুরের নকলা উপজেলায় গ্রাহকদের প্রতি মাসেই বিল দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আড়াই বছরের বেশি সময় ধরে সেবা না পাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ব্যবহারকারীরা। দীর্ঘদিন ধরে বিটিসিএলের লাইনে কাজ না করায় অধিকাংশ তার নষ্ট হয়ে গেছে। তবে অচল লাইনে বিল সচল থাকায় গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

নকলা বিটিসিএল অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় সরকারি ও বেসরকারি অফিস ও ব্যক্তি মালিকানায় প্রায় ৭২টি টেলিফোনের সংযোগ রয়েছে। সবগুলোই সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও অচল। প্রায় আড়াই বছর ধরেই টেলিফোন অফিসেই কোনও লাইন নেই। বিটিসিএল নকলা অফিসের কন্ট্রোল রুম বন্ধ আছে বলেও জানা যায়। সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকলেও নিয়মিত প্রতি মাসে সর্বনিম্ন ১৭৩ টাকা বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে গ্রাহকদের। 

এদিকে যাদের টেলিফোন লাইনের সংযোগ আছে কিন্তু সেবা পাচ্ছেন না, তারা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে সংশ্লিষ্ট মহলকে একাধিকবার আবেদন করেছেন। তবে কর্তৃপক্ষ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেনি। অথচ মাসের পর মাস বিল দিতে হচ্ছে তাদের।  

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নকলা অফিসে একজন অফিস কর্মচারী আছেন। জরাজীর্ণ ভবনে টেলিফোন সংযোগে ব্যবহৃত তার ও ড্রাম এলোমেলোভাবে ফেলে রাখা হয়েছে। ভবনটি বর্তমানে খুবই বেহাল এবং জরাজীর্ণ। মাসের ৩০ দিনের মধ্যে ২০ দিনই তালাবদ্ধ থাকে অফিস। কোনও লোকজনই পাওয়া যায় না নকলা বিটিসিএল অফিসে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুর রশিদ বলেন, অফিসের টেলিফোনের লাইন অচল, কিন্তু প্রতিমাসেই বিল আসছে। সর্বনিম্ন বিল পরিশোধও করতে হচ্ছে। সরকারি বিল কি আর করার, লাইন না থাকলেও আমাদের বাধ্য হয়েই তা পরিশোধ করতে হচ্ছে। টেলিফোন অফিসে বারবার বলার পরেও এর কোনও সমাধান হচ্ছে না জানান।

একই অভিযোগ করে দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন

নকলা থানার ওসি মো. মুশফিকুর রহমান বলেন, নকলা থানা ও কোয়ার্টারে টেলিফোনের কোনও সংযোগ নেই। আমি যোগদানের পর থেকে টেলিফোনে এক মিনিট কথাও বলিনি। তবুও বিল আসে প্রতি মাসে। টেলিফোনের সেবা নেই, কিন্তু বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কাউছার আহাম্মেদ বলেন, আমি নকলায় যোগদানের পরেই দেখি আমার অফিসের টেলিফোনের লাইন অচল। বিষয়টি নকলা ও শেরপুর বিটিসিএল অফিসে জানিয়েও সমাধান পাইনি। লাইন সচল করে দেওয়ার জন্য বারবার বলা হলেও কোনও কাজ হচ্ছে না।

বিটিসিএলের নকলা অফিসের লাইনম্যান আব্দুল রহিম বলেন, আড়াই বছর ধরে নকলা অফিসের লাইন নষ্ট। আমাদের অফিসের টেলিফোনের লাইনই অচল, বাকিগুলোর কথা কী বলবো। আগে বিলের কাগজ দিতে গেলে গ্রাহকরা বলতো আগে লাইন দেন পরে বিল দেবো। কোনও কোনও গ্রাহকের কাছে বিল নিয়ে গেলে মারধরও করতে চান। শেরপুর অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানোর পরও এর কোনও সমাধান হচ্ছে না বলে জানান তিনি।

অবহেলায় পড়ে আছে টেলিফোন ভবননকলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ মো. বোরহান উদ্দিন বলেন, পরিষদের টেলিফোন সংযোগ নিয়ে বড় একটা সমস্যায় আছি। বিভিন্ন দফতরসহ ঢাকা থেকে অনেকেই ফোন করেন, কিন্ত পান না। টেলিফোন নম্বরটা অনেক আগের এবং পুরাতন। মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দফতরে এই নম্বরটা দেওয়া আছে। তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে আমার টেবিলে শো-পিসের মতো রয়েছে টেলিফোন সেটটি। এর কোনও কার্যকরিতা নেই। প্রতিমাসে বিল আসে, কিন্তু এক মিনিটও কথা বলতে পারি না। কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোর পরেও প্রতিকার পাইনি।

নকলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমি বিষয়টি জানতাম না। অল্প কয়েকদিন নকলায় যোগদান করেছি। আমার অফিসের লাইনও অচল। আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও অনেক সময় টেলিফোনে ফোন দেন। কিন্তু অচল থাকার কারণে যোগাযোগ হয় না। টেলিফোন লাইন না থাকাটা আমাদের জন্য একটি বড় সমস্যা। তবে বিটিসিএলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে এর সমাধানের আশ্বাস দেন তিনি।

এসব অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার বিষয়ে জানতে চাইলে শেরপুর বিটিসিএলের জুনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার বেলাল উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, টেলিফোন লাইনটি গেছে আঞ্চলিক মহাসড়কের মাটির নিচ দিয়ে। মহাসড়কের উন্নয়ন কাজ করায় অনেক জায়গায় সংযোগ তার ছিঁড়ে গেছে। এ জন্যই লাইন অচল হয়েছে। তবে কোনও গ্রাহক যদি লিখিত আবেদন দিয়ে লাইন বন্ধ করেন, তাহলে তার বিল দিতে হবে না। লাইন বন্ধ না করার কারণে সর্বনিম্ন বিল দিতে হচ্ছে। 

মহাসড়কের কাজ চলছে এক বছর ধরে, কিন্তু লাইন অচল আড়াই বছর, এ বিষয়ে জানতে চাইলে  তিনি কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি।