ময়মনসিংহ সদরের কাতলাসেন এলাকার ভেকীবিল খাল খননে অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সুবিধাভোগী কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি রাজস্বের প্রায় ৬১ লাখ টাকা ব্যয়ে ছয় কিলোমিটার খালের পলি অপসারণের কথা ছিল। তবে ভেকীবিল সমবায় সমিতি লিমিটেডের নেতৃবৃন্দ ও এলজিইডি কর্মকর্তাদের যোগসাজসে নামমাত্র খাল খননের নামে এ অর্থ লুটপাট করা হয়েছে। এতে খাল খননের সুফল পাচ্ছেন না কৃষকরা। অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সমিতির সেক্রেটারি। এলজিইডির স্থানীয় কর্মকর্তারা বলছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন তারা।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর ময়মনসিংহ সদর কার্যালয়ের তথ্যমতে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর এলজিইডির অধীনে দুটি প্যাকেজে সরকারি রাজস্বের ৬১ লাখ ১১ হাজার টাকা ও সমপরিমাণ অর্থে ভেকীবিল সমবায় সমিতি লিমিটেডের সদস্যদের স্বেচ্ছাশ্রমে ময়মনসিংহ সদরের ভেকীবিলের পাঁচ কিলোমিটার ৮০০ মিটার খালের পলি অপসারণের কাজ শেষ হয় গত ২০২১ সালের ২২ এপ্রিল।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর এলজিইডি এই কাজ বাস্তবায়ন করে। কথা ছিল খাল খনন শেষে ভেকীবিলের চারপাশের সাতটি গ্রামের ১০ হাজার কৃষক কৃষি আবাদে সেচ ও মাছ চাষে উপকার পাবেন।
তবে স্থানীয় কৃষক আব্দুল খালেক জানান, দরপত্রের শিডিউল অনুযায়ী খালের পলি অপসারণ করা হয়নি। ময়মনসিংহ ফুলবাড়িয়া সড়কের কাতলাসেন স্কুল সংলগ্ন ব্রিজের নিচ থেকে প্রায় ৫০০ মিটারের মতো নিয়ম মেনে পলি অপসারণ করে খালের পাড় বাঁধা হয়েছে। বাকি খালের অপসারণ সরকারি নিয়ম মেনে করা হয়নি। তিনি আরও বলেন, খাল খনন না করে ভেকীবিল সমবায় সমিতির নেতৃবৃন্দ ও এলজিইডি কর্মকর্তারা বরাদ্দের অর্থ লুটপাট করেছেন। খাল খনন কৃষকদের কোনও কাজে আসেনি বলে জানান তিনি।
স্থানীয় কৃষক রুবেল মিয়া জানান, নিয়ম মেনে খাল খনন করা হলে ভেকীবিলের চার পাশের কয়েক হাজার কৃষক কৃষি আবাদের সেচ সুবিধাসহ মাছ চাষ করতে পারতো। কিন্তু খালের পলি অপসরাণ না হওয়ায় চলতি বোরো আবাদে গভীর নলকূপের পানি ভাড়া করে সেচ দিতে হচ্ছে। কৃষকের আশার কোনও বাস্তবায়ন হয়নি।
তিনি আরও জানান, ভেকীবিল সমবায় সমিতির সাধারন সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন মুক্তার নেতৃত্বে সমিতির অন্যান্য সদস্যরা এলজিইডি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মিলে খালের পলি অপসরাণ না করে বরাদ্দের অর্থ লুটপাট করেছেন। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ভেকীবিল সমবায় সমিতির সাধারন সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন মুক্তার। তিনি বলেন, শিডিউল অনুযায়ী সরকারি নিয়ম মেনেই খালের খনন কাজ করা হয়েছে। এখন সারা বছরই বিলে পানি থাকায় কৃষকরা উপকৃত হচ্ছেন।
অভিযোগ বিষয়ে ময়মনসিংহ সদরের স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, গত দুই মাস আগে বর্তমান কর্মস্থলে যোগ দিয়েছি। আমি আসার আগেই প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে। পরিদর্শন করে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে বলে জানান তিনি।
তবে শুধু আশ্বাস নয়, তদন্ত সাপেক্ষে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।