‘এখনও আতঙ্ক কাটেনি। ঘুমের মধ্যে মনে হয় এখনও জাহাজে আটকে আছি। বোমা হামলার পর জাহাজে কাটানো ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বেশিরভাগ সময় শুধু সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করেছি। সাহায্য চেয়েছি আমরা যেন সুস্থভাবে পরিবারের কাছে ফিরতে পারি।’ এভাবেই ইউক্রেন ফেরত মেরিন ইঞ্জিনিয়ার রোকনুজ্জামান রাজিব জানাচ্ছিলেন নিজের অভিজ্ঞতার কথা।
রাজিবের বাসা ময়মনসিংহ মহানগরীর জুবেদ আলী রোডে। তার বাবার নাম ওয়াজেদ আলী। বুধবার (৯ মার্চ) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ময়মনসিংহে নিজ বাসায় ফেরেন তিনি।
রাজিব বলেন, জাহাজে বোমা হামলার পর আগুন লেগে অধিকাংশ মালামাল পুড়ে যায়। আমরা সব নাবিক আগুন নেভানোর অনেক চেষ্টা করেছি। আগুন নিভেও গিয়েছিল। কিন্তু পরে দেখা যায় একপর্যায়ে আবারও আগুন জ্বলে ওঠে। এরপর আবার আমরা সবাই মিলে আগুন নিভিয়ে ফেলি।
তিনি আরও বলেন, বোমা হামলার পর জাহাজে আমরা সবাই ২৪ ঘণ্টার মতো আটকে ছিলাম । এরপর আমাদের উদ্ধার করে সীমান্ত এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে ৩৯ ঘণ্টা বাংকারে লুকিয়ে থাকতে হয়েছে। পরে আমাদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থান রোমানিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। এই পুরোটা সময় সবাই আতঙ্কে পার করেছি। ইউক্রেনে আটকা পড়া অবস্থায় সবসময় চোখের সামনে শুধু বাবা-মা, স্ত্রী এবং দুই বছরের শিশু সন্তান ইব্রাহিমের মুখ ভেসে উঠেছে। শুধু ভেবেছি, আবার কি আপনজনের কাছে ফিরতে পারবো। আল্লাহর মেহেরবানিতে পরিবারের কাছে ফিরতে পেরে সবাই খুশি। এজন্য সরকারের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান নাবিক রাজিব।
বাবা ওয়াজেদ আলী বলেন, রাজিবকে আমরা আবার ফিরে পেয়েছি আল্লাহর দরবারে লাখো-কোটি শুকরিয়া। মৃত্যুর খুব কাছ থেকে আমার ছেলে ফিরেছে। তার ফিরে আসার পেছনে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে জানান তিনি।
পাঁচ মাস আগে মেরিন ইঞ্জিনিয়ার রোকনুজ্জামান রাজিব ছুটি শেষে জাহাজে ওঠেন এবং ইউক্রেনে পাড়ি জমান। সঙ্গে দুই জন নারী ক্যাডেট মেরিন ইঞ্জিনিয়ারসহ ২৯ জন সহকর্মী ছিলেন। গত ২ মার্চ বাংলার সমৃদ্ধি জাহাজে বোমা হামলায় মেরিন ইঞ্জিনিয়ার হাদিসুর মারা যান। আটকে পড়েন ২৮ নাবিক ও ক্রু।