ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা পৌরসভার কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতির ছেলে সারোয়ার রহমান শান্তকে (১৭) হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মাদক নেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে ভাড়াটে খুনি দিয়ে শান্তকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করিয়েছে দুই বন্ধু। ঘটনার পর থেকে ওই দুই বন্ধু পলাতক।
সোমবার (১০ অক্টোবর) রাতে হত্যায় জড়িত কান্দিগাঁওয়ের এক কিশোর (১৭) এবং তার সহযোগীকে (১৭) গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ। মঙ্গলবার (১১ অক্টোবর) বিকালে তাদের ময়মনসিংহের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. তাজুল ইসলাম সোহাগ ও ইকবাল হোসেনের আদালতে হাজির করা হয়। তারা ১৬৪ ধারায় হত্যায় ঘটনায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। এর আগে সকালে গোয়েন্দা পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে গ্রেফতারকৃতরা জানায়, শান্তর দুই বন্ধু তাদের ভাড়া করেছিল।
তাদের জবানবন্দির বরাত দিয়ে গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের ৮-১০ দিন আগে মাদক নেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই বন্ধুর সঙ্গে শান্তর ঝগড়া হয়েছিল। এ ঘটনার জেরে শান্তকে হত্যার পরিকল্পনা করে তারা। পরিকল্পিতভাবে দুই কিশোরকে ভাড়া করা হয়। ৫ অক্টোবর রাত সাড়ে ৮টার দিকে প্রতিমা বিসর্জনের পর নাচগানের অনুষ্ঠানে শান্তকে ছুরিকাঘাত করে ভাড়াটে দুই কিশোর। এরপর তারা পালিয়ে যায়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের গাজীপুরে সংশোধনাগারে পাঠানো হয়।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মূলত একসঙ্গে দীর্ঘদিন মাদক গ্রহণ করতো শান্ত ও তার দুই বন্ধু। সম্প্রতি এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। বিরোধের জেরেই শান্তকে ভাড়াটে খুনি দিয়ে হত্যা করায় দুই বন্ধু। ওই দুই বন্ধুকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।’
গত ৫ অক্টোবর দুর্গাপূজার প্রতিমা বিসর্জনের পর রাত সাড়ে ৮টার দিকে মুক্তাগাছার গরুহাটা এলাকায় শান্তকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। এ ঘটনায় শান্তর বাবা কাউন্সিলর মতিউর রহমান বাদী হয়ে মুক্তাগাছা থানায় অজ্ঞাতদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে। ছয় দিনের মাথায় ঘটনার রহস্য উন্মোচন করে গোয়েন্দা পুলিশ।