গত ২৪ ঘণ্টায় নেত্রকোনার বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। জেলার প্রধান নদ-নদী সোমেশ্বরী, কংস, উব্ধাখালী ও ধনুর পাঁচ পয়েন্টের মধ্যে একটিতে পানি বেড়েছে। এ ছাড়া একটিতে স্থিতিশীল রয়েছে এবং অন্য তিন পয়েন্টে পানি কমেছে।
কংস নদীর জারিয়া পয়েন্টে পানি কিছু কমে বিপদসীমার কিছু নিচে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে উব্ধাখালী নদীর পানি বেড়ে কলমাকান্দা পয়েন্টে বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে।
সোমবার (৭ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী সারওয়ার জাহান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত জেলার জারিয়া পয়েন্টে কংস নদের পানি কমে বিপদসীমার ৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। কলমাকান্দা পয়েন্টে উব্ধাখালী নদীর পানি স্থিতিশীল থাকলেও বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছিল। এ ছাড়া জেলার সোমেশ্বরী নদীর পানি বিজয়পুর পয়েন্টে কমে বিপদসীমার ৩৭৯, দুর্গাপুর পয়েন্টে ১৪৭ ও ধনু নদের পানি খালিয়াজুরী পয়েন্টে বাড়লেও বিপদসীমার ১৮৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
এদিকে বন্যা পরিস্থিতির কারণে জেলার দুর্গাপুর, কলমাকান্দা, পূর্বধলা, বারহাটা ও সদর- এই পাঁচ উপজেলার ২৮ ইউনিয়নের শতাধিক গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। অনেকের বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ায় কেউ কেউ আশ্রয়কেন্দ্রে, আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে, গ্রামের উঁচু জায়গা বা ব্রিজে গবাদি পশুসহ আশ্রয় নিয়েছেন। বন্যা পরিস্থিতির ফলে জেলার ১৮৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ রয়েছে এবং ১০ হাজার ৪২৪ হেক্টর আমন ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ নুরুজ্জামান জানান, বন্যার পানিতে জেলার নিম্নাঞ্চলের ১০ হাজার ৪২৪ হেক্টরের মতো আমন ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। তবে দুই তিনের মধ্যে পানি নেমে গেলে ধানের তেমন কোনও ক্ষতি হবে না।
এদিকে জেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ইমদাদুল হক জানান, বন্যা পরিস্থিতির কারণে জেলার চার উপজেলার ১৮৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক বনানী বিশ্বাস জানান, বন্যায় প্লাবিত এলাকাগুলো পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।