একসঙ্গে জানাজা, পাশাপাশি কবরে বাবা ও দুই সন্তানকে দাফন

ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় ভিমরুলের কামড়ে মারা যাওয়া বাবা ও দুই সন্তানের মরদেহ পাশাপাশি দাফন করা হয়েছে। রবিবার (১৩ অক্টোবর) সকালে একসঙ্গে জানাজা শেষে বাড়ির সামনে তাদের দাফন করা হয়।

তারা হলেন- ধোবাউড়া উপজেলার পোড়াকান্দুলিয়া ইউনিয়নের দুধনই গ্রামের বাসিন্দা বাবা আবুল কাশেম (৪৮), মেয়ে লাবিবা আক্তার (৮) ও ছেলে সিফাত উল্লাহ (৬)। স্ত্রী, তিন ছেলে ও দুই মেয়েকে নিয়ে ছিল আবুল কাশেমের সংসার। মসজিদে ইমামতি করে চালাতেন সংসার। ভিটেমাটি ছাড়া আর কোনও জমি না থাকায় বর্গা চাষ করতেন। সন্তানদের মাদ্রাসায় পড়াচ্ছিলেন।

স্বজনরা জানান, কাশেমের বড় ছেলে মো. হেদায়েত উল্লাহ (২১) মাদ্রাসাছাত্র। মেয়ে হাবিবা আক্তার (১৯) বিবাহিত। আরেক ছেলে এহসানুল হক (১৭) মাদ্রাসায় পড়ে। লাবিবা আক্তার স্থানীয় মহিলা মাদ্রাসায় প্রথম শ্রেণিতে পড়তো ও ছয় বছরের সিফাত উল্লাহ এখনও পড়ালেখা শুরু করেনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাড়ির চারপাশে বন্যার পানি থাকায় শনিবার সকালে লাকড়ি আনার জন্য বাবার সঙ্গে নৌকা নিয়ে বের হয়েছিল লাবিবা ও সিফাত। কিন্তু একটি বাঁশঝাড়ে নৌকার ধাক্কা লেগে ভিমরুলের চাক ভেঙে কামড়াতে শুরু করে আবুল কাশেম ও তার দুই সন্তানকে। আহত অবস্থায় তাদের ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শনিবার দুপুর ১টার দিকে বাবা আবুল কাশেম, বিকাল ৩টার দিকে মেয়ে লাবিবা ও রাত সাড়ে ৯টার দিকে একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় সিফাত। রাতে তিন জনের লাশ বাড়িতে নেওয়া হয়। এতে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজন ও প্রতিবেশীরা।

রবিবার সকাল সাড়ে ৯টায় দুধনই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠসংলগ্ন ঈদগাহ মাঠে তাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে হাজারো মানুষ অংশ নেন। কাশেমের বড় ছেলে মো. হেদায়েত উল্লাহ জানাজা পড়ান। তিনি বলেন, ‘বাবা ও ভাইবোনের জানাজা পড়ানো খুব কষ্টের। আল্লাহ যেন তাদের বেহেশত নসিব করেন।’

পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম স্বামী ও দুই সন্তানকে হারিয়ে পাগলপ্রায় শামছুন্নাহার। তিনি বলেন, ‘আমাদের ভিটেটুকুই সম্বল। স্বামী মসজিদে চাকরি করে ৯ হাজার টাকা বেতন পেতো। তা দিয়ে সংসার চলতো। কিছু জমি বর্গা চাষ করে সেই ধান দিয়ে বছরের ভাত হতো। এখন কীভাবে সংসার চলবো আমরা।’

পোড়াকান্দুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মঞ্জুরুল হক বলেন, ‘আমাদের এলাকায় এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা আর দেখিনি। আবুল কাশেম অভাবের মধ্যেও সন্তানদের নিয়ে সৎভাবে জীবন যাপন করতেন। দুই সন্তানসহ তার এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে সবাই শোকাহত।’

খবর পেয়ে তাদের বাড়িতে গিয়ে সমবেদনা জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিশাত শারমিন। তিনি ওই পরিবারের হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেন। 

আরও পড়ুন: ভিমরুলের কামড়ে এক পরিবারের ৩ জনের মৃত্যু