মেডিক্যালে চান্স না পেয়ে শুরু করলেন ভুয়া প্রশ্ন বিক্রি, দুদিনে নিলেন লক্ষাধিক টাকা

মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফেসবুকে ফাঁসের কথা জানান দিয়ে ময়মনসিংহে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হাতে গ্রেফতার হয়েছেন নাজমুল এহসান ওরফে নাঈম (২১) নামের এক শিক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরের মীরবাড়ি এলাকার একটি ছাত্রাবাস থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার নাজমুল এহসান জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার ভুরারবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ময়মনসিংহের আনন্দ মোহন কলেজের গণিত বিভাগের স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। বিকালে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) এম এম মোহাইমেনুর রশিদ বলেন, মেডিক্যাল কলেজ ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে পুলিশ সার্বক্ষণিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরদারি করছিল। এ সময় ফেসবুকে একটি আইডি থেকে বিভিন্ন পোস্টে মন্তব্য করা হয়, ‘মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষা ২০২৪-২৫-এর প্রশ্ন আমাদের হাতে চলে এসেছে, নিচে কিছু অংশ দেওয়া হলো। ১২ হাজার টাকায় প্রশ্ন দেওয়া হবে। এ জন্য অগ্রিম ছয় হাজার টাকা দিতে হবে।’ মন্তব্যের ঘরে একটি ভুয়া প্রশ্নপত্রও দেওয়া হয়। প্রাথমিকভাবে সেটি পুলিশের কাছে প্রতারণামূলক মনে হয়েছে।

মোহাইমেনুর রশিদ বলেন, ওই মন্তব্যের সূত্র ধরে আমরা কাজ শুরু করি। নাঈম মানুষকে ভুয়া প্রশ্নপত্রের প্রলোভন দেখিয়ে টাকা আত্মসাতের জন্য নগরের গাঙ্গিনারপাড় এলাকায় অলকা নদী বাংলা সায়মা টেলিকম থেকে একটি পুরোনো মোবাইল ক্রয় করেন। পরে ফেসবুকে একটি ফোন নম্বর ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট খোলেন। গত দুই দিনে বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করে প্রশ্নপত্র দেবে বলে লক্ষাধিক টাকা এনেছেন। পরে তাকে গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এর সত্যতা পাওয়া যায়।

গ্রেফতার নাজমুল এহসানের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছেন কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে জানিয়ে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, তার বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে। সংবাদ সম্মেলনে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলামসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ওসি শহীদুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাজমুল বলেছেন আগে মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়ে এই প্রতারণার পরিকল্পনা করেন। তিনি ভুয়া প্রশ্নপত্রের প্রলোভন দেখিয়ে লক্ষাধিক টাকা নিয়েছেন।