ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনের ভালুকা বাসস্ট্যান্ড ও হবিরবাড়ি এলাকায় নির্বাচনি প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু এবং স্বতন্ত্র দলটির বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মুহাম্মদ মোর্শেদ আলমের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় স্বতন্ত্র প্রার্থীর ওপরও হামলার ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় লোকজন স্বতন্ত্র প্রার্থীকে গাড়িতে তুলে দিলে তিনি স্থান ত্যাগ করেন।
রবিবার বিকাল ৫টা থেকে শুরু হওয়া দফায় দফায় সংঘর্ষে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এ সময় স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকের ও বিএনপির কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, ভালুকার ভরাডোবা ইউনিয়নের নিশিন্দা বাজারে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোর্শেদ আলমের পক্ষে লিফলেট বিতরণকালে ফখর উদ্দিন বাচ্চুর সমর্থকরা হামলা চালান। এতে অপু নামে এক কর্মী গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। এর পরপরই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং ভালুকা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
সংঘর্ষ চলাকালীন ভালুকা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ইসলামী ব্যাংকের সামনে অবস্থিত বিএনপির কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক আদি খান শাকিলের নির্বাচনি অফিসেও আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুনের ঘটনায় ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে চারপাশ।
স্বতন্ত্র প্রার্থী ও উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মোর্শেদ আলম বলেন, বাটাজোড় বাজারে নির্বাচনি প্রচারণা চালানোর সময় আমার ওপর সরাসরি হামলা চালানো হয়েছে। একজন সংসদ সদস্য প্রার্থীর ওপর এভাবে হামলা হলে সাধারণ ভোটাররা কতটা নিরাপদ।’
স্থানীয় সূত্র জানায়, বর্তমানে পুরো ভালুকা এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সংঘর্ষের খবর ছড়িয়ে পড়লে ব্যবসায়ীরা আতঙ্কিত হয়ে দোকানপাট বন্ধ করে দেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে থেমে থেমে এখনও সংঘর্ষ চলছে। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২২ জানুয়ারি থেকে তিন দিন ধরে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোর্শেদ আলমকে উপজেলার বিভিন্ন নির্বাচনি প্রচারণায় বাধা দেওয়া হয়। প্রচারণার কাজে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। আজ লিফলেট বিতরণকালে বাধা প্রদান এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীর ওপর হামলা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ শুরু হয়।