জামালপুর-কুড়িগ্রাম সীমান্তের আটটি পৃথক পয়েন্ট দিয়ে একরাতে শতাধিক মানুষকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় লোকজনের কঠোর অবস্থান ও প্রতিরোধের মুখে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। সোমবার গভীর রাতে জামালপুর ৩৫ বিজিবির আওতাধীন বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বিষয়টি জানিয়েছে জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়ন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সোমবার রাত ১২টা থেকে দাঁতভাঙা বিওপির ১০৫৪ নম্বর সীমান্ত পিলার এলাকায়, মুল্লারচর সীমান্ত পিলার ১০৬২-এর পাশে কুচুনিমারা এলাকায়, ইজলামারি বিওপির ১০৬৭ নম্বর পিলারের বিপরীতে মানকারচর এলাকায়, খেয়ারচর বিওপির ১০৬৯ নম্বর পিলারের বিপরীতে সদরটিলা এলাকায়, পাথরেরচর বিওপির ১০৭৫ নম্বর পিলারের বিপরীতে লুকায়েরচর এলাকায়, বাঘারচর বিওপির ১০৭৩ নম্বর পিলারের বিপরীতে বালুরঘাট এলাকায়, ঝাউডাঙা বিওপির ১০৭৮ নম্বর পিলারের বিপরীতে দর্গাপাড়া এলাকায় এবং সাতানীপাড়া বিওপির ১০৮৭ নম্বর পিলারের বিপরীতে বিলডুবা এলাকায় শতাধিক মানুষকে পুশইনের চেষ্টা করেছিল বিএসএফ। রাতে এসব পয়েন্টে বিএসএফ সার্চলাইট বন্ধ করে দিলে সন্দেহ হয় বিজিবির। পরে বিজিবি কঠোর অবস্থান নিলে এবং স্থানীয়দের প্রতিরোধের মুখে বিএসএফের এসব চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।
বিজিবি ও এলাকাবাসী জানায়, গত কয়েকদিন ধরে দেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করছে বিএসএফ। বিভিন্ন সীমান্তে উত্তেজনার মধ্যেই সোমবার রাতে বাঘারচর ও পাথরের চর সীমান্তের কাছে কুমারেরচর এলাকা দিয়ে ভারতের বিএসএফ সার্চলাইট বন্ধ করে ১৮ জনকে পুশইনের চেষ্টা চালায়। কিন্তু জামালপুর ৩৫ বিজিবি ও স্থানীয়দের কঠোর অবস্থানের মুখে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। এ নিয়ে সীমান্তে উত্তেজনা দেখা দেয়। স্থানীয় লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে বিজিবির সঙ্গে সীমান্তে অবস্থান নেয়। এ অবস্থায় ১৮ জনকে ফিরিয়ে নেয় বিএসএফ। এর আগে রবিবার রাতেও বড়াইবাড়ী সীমান্তে আট জনকে পুশইনের চেষ্টা করলে বিজিবি ও এলাকাবাসীর কঠোর অবস্থানের কারণে ব্যর্থ হয় বিএসএফ।
একইভাগে রাত সাড়ে ১২টার দিকে দাঁতভাঙা বিওপির আওতাধীন ১০৫৪ নম্বর সীমান্ত পিলারের বিপরীতে ভারতের দীপচর এলাকা থেকে ১০ জনকে, মোল্লারচর সীমান্তের ১০৬২ নম্বর পিলারের পাশের কুচুনিমারা এলাকা দিয়ে আরও ১০-১২ জনকে, ইজলামারি বিওপির ১০৬৭ নম্বর পিলারের বিপরীতে ভারতের মানকারচর এলাকা থেকে ১২-১৩ জনকে, খেয়ারচর বিওপির ১০৬৯ নম্বর পিলারের বিপরীতে সদরটিলা এলাকা থেকে ২৫-৩০ জনকে, পাথরেরচর বিওপির ১০৭৫ নম্বর পিলারের বিপরীতে লুকায়েরচর এলাকা থেকে ১৮-২০ জনকে, বাঘারচর বিওপির ১০৭৩ নম্বর পিলারের বিপরীতে বালুরঘাট এলাকা থেকে আট জনকে, ঝাউডাঙা বিওপির ১০৭৮ নম্বর পিলারের বিপরীতে দুর্গাপাড়া এলাকা থেকে ১০ জনকে এবং সাতানীপাড়া বিওপির ১০৮৭ নম্বর পিলারের বিপরীতে বিলডুবা এলাকা থেকে সাত জনকে পুশইনের চেষ্টা করা হয়। পরে বিজিবির কড়া সতর্কতা ও স্থানীয়দের প্রতিরোধের মুখে বারবার ব্যর্থ হয়েছে তাদের পুশইন।
এদিকে, জামালপুর বিজিবির আওতাধীন ৭২ কিলোমিটার সীমান্তে ১৫টি বিওপির সদস্যরা রাতদিন টহল দিয়ে যাচ্ছেন। অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে বাড়তি সতর্কতার পাশাপাশি নিজস্ব গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিজিবি ছাড়াও জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিজিবির সঙ্গে রাতভর সতর্ক অবস্থায় রয়েছেন।
জামালপুর ৩৫ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল হাসানুর রহমান বলেন, ‘গত কয়েকদিন ধরে এই সীমান্ত দিয়ে পুশইনের চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিজিবি পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়। সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। যেকোনো অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে সীমান্তজুড়ে কঠোর নজরদারি অব্যাহত রাখা হয়েছে। বিজিবি সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন।’