পাম্পে ও বাসায় গ্যাস নাই, সংসার চালানোর উপায় নাই

ময়মনসিংহে গত কয়েকদিন ধরে গ্যাস সংকট চলছে। এই সংকট এখন চরমে পৌঁছেছে। বাসাবাড়িতে গ্যাস না থাকায় রান্না করতে পারছেন না অনেকে। আর সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ যানবাহন চালকরা।

রবিবার (২৬ জুলাই) সকালে সরেজমিনে ময়মনসিংহের দিগার কান্দা বাইপাস মোড় এলাকার বিভিন্ন সিএনজি স্টেশনগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, যানবাহনের দীর্ঘ লাইন। কিন্তু পাম্পে নেই গ্যাস। গ্যাস না পেয়ে চালকরা অপেক্ষার প্রহর গুনছেন। অনেকে রাতে এসেছেন আবার অনেকে সকালে এসে অপেক্ষা করছেন। কখন গ্যাস সরবরাহ হবে বলতে পারছেন না কেউ। 

ভোগান্তির কথা জানিয়ে সিএনজি অটোরিকশাচালক কামাল হোসেন বাংলা ট্রিবিউন বলেন, গত এক মাস ধরে স্টেশনগুলোতে গ্যাস সংকট চলছে। সময়মতো গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে গাড়ি চালাতে পারছি না। বাসাবাড়িতেও গ্যাস নেই। আয়রোজগার কমে যাওয়ায় কষ্টে জীবনযাপন করছি। এই সংকট কবে কাটবে, কেউ বলতে পারছে না।

মাইক্রোবাস চালক শামসু উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এই মাইক্রোবাস চালিয়ে সংসার চলে। ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া করাতে পারছি। নগরীতে বাসা ভাড়া নিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে থাকছি। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস সংকটের কারণে এখন আর মাইক্রোবাস ভাড়ায় যেতে পারি না। ঘরে জমানো টাকা ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। এখন সংসারের খরচ চালানোর কোনও উপায় নাই। কোনও পাম্পে গ্যাস নাই। কবে গ্যাস সংকটের সমাধান হবে, তাও বুঝতে পারছি না। এটা ভোগান্তি ছাড়া কিছুই নয়।

নিটল টাটা গ্যাস সিএনজি পাম্পের ইঞ্জিনিয়ার রাজি আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, শনিবার রাতে কিছুটা গ্যাস সরবরাহ থাকলেও সকালের পর আর গ্যাস পাওয়া যায় না। এরকম সমস্যা প্রায় এক মাসের বেশি সময় ধরে চলছে। কিন্তু কোনও সমাধান হচ্ছে না। সংকটের কারণে যানবাহন চালকরা দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন। কিন্তু আমরা গ্যাস সরবরাহ করতে পারছি না। 

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বাংলাদেশ তিতাস গ্যাস অ্যান্ড ট্রান্সমিশন ময়মনসিংহ কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক শামীম হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমদানিনির্ভর এলএনজির সমস্যার কারণে গ্যাস সংকট তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে সমস্যা সৃষ্টি হওয়ায় গ্যাস সংকট এখন জাতীয় সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে। তবে আশা করা যাচ্ছে, আগামী এক মাসের মধ্যে এই সংকট কেটে যাবে। গ্রাহকদের এই সময়ের জন্য ধৈর্য ধারণ করার আহ্বান জানাচ্ছি।