গ্রাম পুলিশের বিরুদ্ধে ডাকঘরের জমি দখলের অভিযোগ

ডাকঘরের সরকারি জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে গ্রাম পুলিশের (চৌকিদার) বিরুদ্ধে। দোকান ছাড়াও জায়গা দখল করে গরুর খোয়াড় ও পায়খানা নির্মাণ করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, জমি দখলে প্রকাশ্যে সহায়তা করেছে থানা পুলিশ। তবে পুলিশ সে অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলা রাওনা ইউনিয়নের শিবগঞ্জ বাজারে অবস্থিত ইউনিয়ন ডাকঘরের জায়গা দখল করে স্থানীয় ৬ প্রভাবশালীরা মাকের্ট নির্মাণ করেছেন। দখলকৃত জমির বর্তমান বাজার মূল্য ২ কোটি টাকা।

এই দখলদারের তালিকায় আছেন গ্রাম পুলিশ চন্দন কাহার, শিবগঞ্জ বিদাস উচ্চ বিদ্যালয়ের দফতরি বলাই, স্থানীয় মানিক, রুহুল, রাশিদ ও সিহাব। তবে  সবচেয়ে বেশি জায়গা দখল করেছেন রাওনা ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ চন্দন কাহার।

ডাকঘরের জায়গা দখলের বিষয়ে শিবগঞ্জ পোস্ট মাস্টার আতিকুল ইসলাম ডেপুটি জেনারেল পোস্ট মাস্টার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন। কিন্তু জায়গা উদ্ধারের বিষয়ে তাদের কোনও মাথা ব্যাথা নেই। এ কারণে সন্ত্রাসীরা তাকে হুমকি দিচ্ছে বলেও জানান পোস্ট মাস্টার আতিকুল।

শিবগঞ্জ বাজারের ডাকঘরের মোট জমি ২৭ শতাংশ। এর মধ্যে ৫ শতাংশ জমির উপর নতুন একটি ভবন নির্মাণ করেছে সরকার। বাকি ২২ শতাংশ জায়গা দখল করে নিয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। ভয়ভীতি দেখিয়ে বাজারের প্রভাবশালীরা যে যার মতো করে জায়গা দখল করে মার্কেট নির্মাণ করে ফেলেছে। দখলকৃত জমিতে গরুর খোয়াড় ও পায়খানা নির্মাণ করেছেন গ্রাম পুলিশ চন্দন।

আরও পড়তে পারেন: এক দ্বীপে এক পরিবার!

গত ১ এপ্রিল গফরগাঁও থানা থেকে একদল পুলিশ উপস্থিত হয়ে গ্রাম পুলিশ চন্দন কাহারের পক্ষে অবস্থান নেয়। গ্রাম পুলিশ চন্দনকে প্রকাশ্যে সহায়তা করেছেন বলেও স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।

শিবগঞ্জ পোস্ট মাস্টার বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে অবহিত করার পরও জায়গা উদ্ধার করতে না পারর দুঃখ কোথায় রাখি। দখলের প্রতিবাদ করলে দখলদাররা হুমকি দেয়।’

এ ব্যাপারে গফরগাঁও উপজেলা পোস্ট পরিদশর্ক রিপন মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

দখলকারী চন্দন কাহার, মানিক, বলাই বলেন, ‘দীর্ঘদিন আগে এই জায়গা নিজের পকেটের টাকায় মাটি ভরাট করি। বর্তমানে এই জায়গায় আমরা থাকছি।’

আরও পড়তে পারেন: নতুন শাড়ি পরেননি, ইলিশও খাননি প্রধানমন্ত্রী

স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ প্রসঙ্গে তারা বলেন, এ বিষয়ে গফরগাঁও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা জানেন। তবে কোন নেতা, তা নাম প্রকাশ করেননি তারা।

জমি দখলে সহায়তার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গফরগাঁও থানার এসআই সিরাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘তারা সেদিন জমি দখলের কাজে সহায়তা করতে নয় অন্য কাজে সেখানে গিয়েছিলেন।’

 

/এসটি/