পুলিশ পায়নি কূলকিনারা, দেড় বছর পর কালু মিয়া পিবিআইকে জানালো নাটক সাজানো হয়েছিল 

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে প্রায় দেড় বছর আগে সংঘটিত রাসেল মিয়া (৩৮) হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় কালু মিয়া (২৮) নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

নিহত রাসেল মিয়া সরিষাবাড়ী পৌরসভার আরামনগর বাজারের একটি হোটেলে কর্মচারী ছিলেন। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে জামালপুর জেলা পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পিবিআই জানায়, ২০২৫ সালের ১৯ মার্চ সন্ধ্যার পর বাড়ি থেকে বের হন রাসেল। এরপর আর বাড়ি ফেরেননি। পরদিন ২০ মার্চ সকালে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, আরামনগর বাজারের সেটপট্টির দুধহাটিতে হাফিজুর রহমানের চায়ের দোকানের ঘরের ভেতর বাঁশের আড়ার সঙ্গে ঝুলে থাকা অবস্থায় রাসেলের মরদেহ পাওয়া গেছে। এরপর লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায় পুলিশ।

এ ঘটনায় নিহতের মা মেহেনারা খাতুন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে সরিষাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটি প্রথমে সরিষাবাড়ী থানা পুলিশ তদন্ত করে। কিন্তু কোনও কূলকিনারা করতে না পারায় পরে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশে মামলার তদন্তভার পিবিআই জামালপুরকে দেওয়া হয়।

পিবিআই জানায়, মামলাটি তদন্তের একপর্যায়ে গত ১১ আগস্ট সরিষাবাড়ীর আরামনগর এলাকা থেকে কালু মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সোহেলসহ আরও কয়েকজনের নাম জানান কালু। তদন্ত ও আদালতে দেওয়া আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি থেকে জানা যায়, রাসেল মিয়া ঘটনার কিছুদিন আগে সোহেলের কাছ থেকে ৩৫ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন। ওই টাকা ফেরত চেয়ে সোহেল বিভিন্ন সময় রাসেলকে হুমকি দিয়ে আসছিলেন।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৯ মার্চ সন্ধ্যার পর সোহেল তার এক বন্ধুর মাধ্যমে রাসেলকে ডেকে নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে কালু মিয়াসহ কয়েকজন মিলে পাওনা টাকা আদায়ের কথা বলে রাসেলকে মারধর করেন। একপর্যায়ে হত্যা করে ঘটনাটিকে ‘আ/ত্মহত্যা’ হিসেবে দেখানোর উদ্দেশ্যে মরদেহ আরামনগর বাজারের একটি চায়ের দোকানের ঘরে নিয়ে গিয়ে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় বলে পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে আসে। ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য রাসেলের হাত-পা বেঁ/ধে মরদেহ ঝুলিয়ে রেখে নাটক সাজানো হয়েছিল। আসামির জবানবন্দিতে হত্যায় জড়িত আরও কয়েকজনের নাম উঠে আসে। কালুকে ২৩ আগস্ট আদালতে হাজির করা হলে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।

পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত বলেন, ‘পাওনা টাকা আদায়ের জন্য পরিকল্পিতভাবে রাসেল মিয়াকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যায় জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।’