নির্বাচনে আমরা বিপুল ভোটে জয়ী হলেও ইঞ্জিনিয়ারিং করে হারিয়েছে: জামায়াত আমির

লালমনিরহাটের এমপি এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুর নাম উল্লেখ না করে রংপুরে ১১ দলের সমাবেশে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘তিনি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য আন্দোলন করেছেন, বড় বড় বুলি আওড়িয়েছেন। এখন নিশ্চুপ কেন তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য? চীন গেলেন প্রধানমন্ত্রী, কই কোনও চুক্তিতো হলো না। দিল্লির ভয়ে তারা চুক্তি করে নাই। আমরা নির্বাচনে আগেই ওয়াদা করেছিলাম, ক্ষমতায় গেলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবো। কিন্তু নির্বাচনে আমরা বিপুল ভোটে জয়ী হলেও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে আমাদের পরাজিত করা হয়েছে।’ 

তিনি বলেন, ‘গণভোটের গণ রায় বাস্তবায়ন, চাঁদাবাজি টেন্ডারবাজি সন্ত্রাস ও দলীয়করণ বন্ধ না করা হলে আট দফা দাবি এক দফায় পরিণত হবে। এর দায় এই সরকারকেই নিতে হবে।’

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টায় রংপুর জিলা স্কুল মাঠে ১১ দলের ঢাকা থেকে রংপুরের লংমার্চের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

শফিকুর রহমান বলেন, ‘তারেক রহমান নির্বাচনের সময় রংপুরের জনসভায় ঘোষণা দিয়েছিলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য হ্যাঁ-এর পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য। দেশের ৭০ ভাগ মানুষ গণভোটের পক্ষে ভোট দিয়েছিল, কিন্তু তারেক রহমান জনগণের সে রায়কে অপেক্ষা করে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করছে না।’

তিনি প্রশ্ন করেন, ‘জুলাই সনদ যদি অবৈধ হয়, তাহলে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনও অবৈধ। তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন সেটাও তো অবৈধ। তাছাড়া সংবিধান মেনে তো জুলাই গণঅভ্যুত্থান হয় নাই।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি ৫০ শতাংশ ভোট নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে, কিন্তু ৭০ শতাংশ মানুষের দাবি অগ্রাহ্য করে আসছে। আমরা তাকে বলে দিতে চাই, অবিলম্বে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আর দফা দাবি মেনে নেওয়ার জন্য অন্যথায় দেশের জনগণ এক দফা দাবি নিয়ে মাঠে নামলে করার কিছু থাকবে না।’

জামায়াত আমির বলেন, ‘এই সরকার ক্ষমতায় অসার আগে যেসব ওয়াদা করেছিল তার একটা বাস্তবায়ন করেনি। বরং আওয়ামী লীগের পথে হাঁটছে তারা। এর পরিণাম ভালো হবে না।’

সিরাজগঞ্জে লংমার্চে যোগ দিতে আসা কয়েকজন নেতাকর্মীর ওপর হামলা করার অভিযোগ করে বলেন, ‘এর পরিণাম ভালো হবে না। আমরা হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে কালো হাত ভেঙে দেবো। আমরা ১১ দলের দাবি আদায়ের জন্য নয়, ১৮ কোটি মানুষের দাবি বাস্তবায়নের জন্য আন্দোলন করছি। লংমার্চ করছি। ঢাকা থেকে রংপুর পর্যন্ত রাস্তায় লাখো নারী পুরুষ লংমার্চের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে। আবারও বলছি, আমাদের ৮ দফা দাবি বাস্তবায়িত না হলে আমরা বসে বসে আঙুল চুষবো না, এক দফায় পরিণত করে জনগণের দাবি আদায় করে ছাড়বো।’