‘হামলা-হত্যায় থামবে না সাংবাদিকদের কলম’

নেত্রকোনার সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফকে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে নাটোরে মানববন্ধন করেছেন গণমাধ্যমকর্মীরা। এ সময় হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি করেন তারা।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নাটোর শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে জেলার সর্বস্তরের সাংবাদিক সমাজের আয়োজনে ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকেরা অংশ নেন।

মানববন্ধনে সাংবাদিকেরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, হত্যা, হামলা, মামলা ও হুমকি দিয়ে সাংবাদিকদের কলম থামানো যাবে না।

৭১ টেলিভিশনের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক বুলবুল আহমেদ বলেন, সাংবাদিকদের কলম চলছে, চলবে। আমরা হুমকি-ধামকির পরোয়া করিনি বলেই সাংবাদিকতায় রয়েছি। খুন, হামলা, মামলা ও হুমকি দিয়ে কোনও দিন সাংবাদিকদের দমিয়ে রাখা যায়নি, যাবেও না। অন্যায়কারীদের চোখরাঙানিতে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ থেমে থাকবে না।

টোয়েন্টিফোরের স্টাফ রিপোর্টার দেবাশীষ কুমার সরকার বলেন, সমাজের সত্য তুলে ধরতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে, এমনকি তাদের হত্যা করা হচ্ছে। অথচ এসব অপরাধের বিচার হচ্ছে না। তিনি সাংবাদিক আলিফ হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতার ও বিচারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি করেন।

নাটোরের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক নাসিম উদ্দিন নাসিমের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন যমুনা টেলিভিশনের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক নাজমুল হাসান, এনটিভির জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক হালিম খান, এখন টিভির মাহবুব হোসেন, জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রেজাউল করিম রেজা, ডিবিসির পরিতোষ কুমার অধিকারী, মোহাম্মদ আলী সুফি সান্টু ও আল মামুন প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, সাংবাদিক আলিফের ওপর হামলা ও হত্যাকাণ্ড দেশের স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য বড় হুমকি। দুর্নীতি, অনিয়ম, মাদক, সন্ত্রাস ও অন্যান্য অপরাধের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হচ্ছে, যা মুক্ত সাংবাদিকতাকে বাধাগ্রস্ত করছে।

সত্য প্রকাশ করতে গিয়ে কোনও সাংবাদিককে যাতে এভাবে জীবন দিতে না হয়, সে জন্য সরকার ও প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

মানববন্ধন থেকে সাংবাদিক আলিফকে হত্যার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতার করে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।

বক্তারা আরও বলেন, সাংবাদিক আলিফকে হত্যার হুমকি ও হামলার আশঙ্কার বিষয়টি আগেই প্রশাসনকে জানানো হয়েছিল। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি। প্রশাসনের এ ধরনের নিষ্ক্রিয়তা স্বাধীন সাংবাদিকতাকে চরম হুমকির মুখে ফেলেছে।