বগুড়ার ঐতিহাসিক নওয়াববাড়ি অধিগ্রহণের দাবি

বগুড়ার নওয়াব প্যালেস

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী সৈয়দ মোহাম্মদ আলী চৌধুরীর স্মৃতি বিজড়িত ঐতিহাসিক নওয়াব প্যালেস অধিগ্রহণের দাবিতে বগুড়ার বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষ পথে নেমেছেন। প্রতিদিনই শহরের সাতমাথায় মানববন্ধন ও সমাবেশ কর্মসূচি পালন করছেন তারা।
বগুড়ার ঐতিহ্য স্থাপনা রক্ষা কমিটির উদ্যোগে নওয়াব বাড়ি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া দ্রুততর করার দাবিতে বুধবার দুপুরে সংস্কৃতিমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসক আশরাফ উদ্দিন স্মারকলিপি গ্রহণ করেন।
স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, প্রায় ৩৫০ বছরের পুরনো নওয়াব প্যালেস বগুড়া তথা ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের জীবন্ত স্বাক্ষর। তা স্থায়ীভাবে সুরক্ষার জন্য সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসন যখন পত্রবিনিময় করছে ঠিক তখন অবিভক্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ আলীর স্মৃতি বিজড়িত এই স্থাপনাটি গোপনে বিক্রি করে ফেলা হয়েছে। ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাস ঐতিহ্যের এই অমূল্য সম্পদ মাত্র ২৭ কোটি ৪৫ লাখ সাত হাজার টাকায় কিনে সেখানে নতুন স্থাপনা তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে প্রভাবশালীরা। তাই এই প্যালেস সরকারিভাবে দ্রুত অধিগ্রহণ করার জোর দাবি জানানো হয় স্মারলিপিতে।

বগুড়ার নওয়াব প্যালেস অধিগ্রহণের দাবিতে স্মারকলিপি
গত ১৭ এপ্রিল বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব মমতাজ উদ্দিনের ছেলে বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রির সভাপতি মাছুদুর রহমান মিলন, সহ-সভাপতি শফিকুল হাসান জুয়েল ও সাবেক সহ-সভাপতি আবদুল গফুর নওয়াব প্যালেস রেজিস্ট্রি করে নেন। নামমাত্র মূল্যে এ সম্পত্তি বিক্রি করেন মোহাম্মদ আলীর প্রথম স্ত্রীর দুই ছেলে সৈয়দ হাম্মাদ আলী চৌধুরী ও সৈয়দ হামদে আলী চৌধুরী। তবে দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তান সৈয়দ মাহমুদ আলী চৌধুরী এবং সৈয়দা মাহমুদা আলী চৌধুরানীকে এ ব্যাপারে জানানো হয়নি। তারা আইনগত ব্যবস্থা নিতে লিগ্যাল অ্যাডভাইজার অ্যাডভোকেট শাহজাহান আলী তালুকদারকে নির্দেশ দিয়েছেন।
স্মারকলিপি দেওয়ার সময় অন্যান্যের মধ্যে ঐতিহ্য স্থাপনা রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আব্দুর রাজ্জাক, বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক তৌফিক হাসান ময়না, প্রবীন রাজনীতিক মাহফুজুল হক দুলু, উদীচী সভাপতি ফিজু চৌধুরী, সাংবাদিক আব্দুর রহিম বগ্রা, মহসীন আলী রাজু, জেএম রউফ, আব্দুস সালাম বাবু, রেজাউল বারী দিপন, আবু সাঈদ সিদ্দিকী, আতিকুর রহমান মিঠু, আব্দুল হান্নান, জাহিদুর রহমান মুক্তা, এইচ আলিম, রাকিব জুয়েল, সাজেদুর রহমান সিজু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
গত রবিবারও শহরের সাতমাথায় একই দাবিতে বিভিন্ন পেশার মানুষ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।

আরও পড়ুন- 

মাদারীপুরে ১০০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার

এখনও জ্বলছে সুন্দরবনের আগুন





/এফএস/