তীব্র দাবদাহে সৃষ্ট খরায় বরেন্দ্র ভূমিখ্যাত নওগাঁ জেলার সাপাহার উপজেলা সদরের মানিকুড়া দিঘীপাড়া গ্রামে খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গ্রামের মানুষ সকাল থেকে পাশের গ্রামে গিয়ে পানির জন্য দীর্ঘ সারি ধরে দাঁড়িয়েছে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর বেশ নিচে নেমে যাওয়ায় প্রতি বছরের মত এবারও দেখা দিয়েছে এ সংকট।
গ্রামের দরিদ্র ৮০টি পরিবার পুকুর ও ডোবার ময়লা পানি দিয়ে প্রয়োজনীয় কাজ সেরে নিচ্ছে। ফলে দেখা দিয়েছে বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ। দ্রুত পানীয় জলের অভাব দূর করতে সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন গ্রামবাসী।
দেশের বরেন্দ্র অঞ্চলের মধ্যে নওগাঁর সাপাহার এলাকা ‘ঠাঁ ঠাঁ বরেন্দ্র অঞ্চল’ নামে খ্যাত। এসব এলাকায় এমনিতেই পানির সংকট লেগে থাকে। প্রতি বছর খরা মৌসুমে এসব এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর অস্বাভাবিকভাবে নিচে নেমে যায়। তবে অন্যান্য গ্রামের মানুষ টিবওয়েলে খাবার পানির অভাব মিটিয়েছে। মানিকুড়া দিঘীপাড়া গ্রামে সবাই দরিদ্র হওয়ায় গভীর টিউবওয়েল স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।
গ্রামে হাতে গোনা কয়েকটি অল্প গভীরতা সম্পন্ন টিউবওয়েল থাকলেও মাঘ মাস থেকে জ্যৈষ্ঠ মাস পর্যন্ত পানি তোলা সম্ভব হয় না। খরার এই ছয় মাস গ্রামের টিউবওয়েলগুলো অকেজো হয়ে পড়ে থাকায় গ্রামের ৮০টি পরিবারের প্রায় সাড়ে ৪শ’ লোক খাবার পানির তীব্র সংকটে দিন কাটায়। গ্রামে একটি মাত্র পাতকুয়ার নোংরা পানি বাধ্য হয়ে পান করছেন সবাই। সকাল থেকে লাইন ধরে পাতকুয়া থেকে পানি তুলে গৃহস্থালির প্রয়োজনীয় কাজ করে নিতে হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
গ্রামের রামপদ সরকার বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, পাতকুয়ার পানি নোংরা বা ঘোলা হলেও বাধ্য হয়েই এই পাতকুয়ার পানি পান করে থাকেন গ্রামবাসী। গ্রামে একটি সরকারি পুকুর আছে। তবে দীর্ঘ দিন পুনঃখনন না করায় প্রায় ভরাট হয়ে গেছে। পুকুরে খরা মৌসুমে এক থেকে দেড় ফিট পানি থাকায় পানি ঘোলা হয়ে যায়।
অনিমা রানী ও রুপালি সরকার বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, গ্রামে কয়েকটি পরিবার মিষ্টি তৈরির ব্যবসা করে সংসারের খরচ মেটাতেন। টিউবওয়েলে পানি না ওঠায় পানির অভাবে কয়েক মাস থেকে ব্যবসা বন্ধ হয়ে বেকার পড়ে আছে এসব পরিবার।
গ্রামের রাম সরকার বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, গ্রামে বেশ কয়েকটি টিউবওয়েল থাকলেও খরার এই ছয় মাস পানি না ওঠার কারণে অকেজো হয়ে থাকে সব। গ্রামে একটি পাতকুয়া থাকলেও প্রায় ৭০ ফিট নিচে যাওয়ায় বালতি দিয়ে পানি তুলতে অসুবিধা হয়। আর পানিও ঘোলা। অনেকটা সময় রাখার পর খাবার উপযোগী হয়। সকাল থেকে নারী, শিশুর পাশাপাশি পুরুষদের বাড়তে থাকে ভিড়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের এ ব্যাপারে জানিয়েও কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ওই গ্রামে পানির সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধানের জন্যে পরিষদ থেকে ইতোপূর্বে দুটি টিউবওয়েল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পানির লেয়ার অত্যধিক নিচে থাকায় টিউবওয়েল স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। ঘটনাটি ইতোমধ্যে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আকারে দেওয়া হয়েছে।
সাপাহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনিরুজ্জামান ভূঁইয়া বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ওই গ্রামে খাবার পানির তীব্র সমস্যার কথা জানতে পেরে ইতোমধ্যে দুটি সাব-মার্সিবল স্থাপনের জন্যে ঊর্ধ্বতন মহলের কাছে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বরাদ্দ এলেই দ্রুত সাব-মার্সিবল স্থাপনসহ পুকুরটি খননের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
/এইচকে/