বিদ্যুতের আসা-যাওয়ার খেলায় বিপাকে পরীক্ষার্থীরা

লোডশেডিং

ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে রাজশাহীর বাসিন্দারা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। বিদ্যুতের আসা-যাওয়ার খেলায় বিশেষ করে বিপাকে পড়েছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। তার ভালোভাবে প্রস্তুতিও নিতে পারছে না।

বিদ্যুৎ সরবরাহের এমন পরিস্থিতির মধ্যে শুক্রবার রাজশাহীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্র রেকর্ড করা হয়েছে। শুক্রবার রাজশাহীর তাপমাত্রা ছিল ৪১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

রাজশাহী সিটি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের এইচএসসি পরীক্ষার্থী সাজ্জাদুর রহমান বলেন, ‘বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে রাতে পড়াশোনা ঠিকমত করতে পারি না। আবার ভ্যাপসা গরমে ঠিকমতো ঘুমাতেও পারি না। ফলে পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়ে প্রশ্নপত্র হাতে পাওয়ার পর চোখে আবছা দেখি।’

আরও পড়ুন: আজ গোপালগঞ্জ যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

আরেক পরীক্ষার্থী আলী এহেতেসাম ঐশিক বলেন, ‘বিদ্যুৎ না থাকার কারণে মোমবাতির আলোয় পড়ালেখা করতে হয়। চোখের উপর খুব চাপ পড়ছে।’

অগ্রণী স্কুল অ্যান্ড কলেজ এইচএসসি পরীক্ষার্থী ইশরাত জাহান এলিন বলেন, ‘প্রচণ্ড গরম, এর মধ্যে বিদ্যুৎ অতিথির মতো যায় আর আসে। রাতের বেশির ভাগ সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। একবার বিদ্যুৎ গেলে দুই তিন ঘণ্টা পরে আসে। মোমবাতির আলোয় পড়তে হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের ফলাফল ভালো নাও হতে পারে।’

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মাদার বখ্শ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী নুরুজ্জামান হোসেন বলেন, ‘ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে। ২৪ ঘণ্টার অর্ধেক সময় বিদ্যুৎ থাকে না। সামনে পরীক্ষা। কিন্তু গরমের কারণে পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে।’ 

আরও পড়ুন: যৌন নিপীড়নকারীকে বাঁচাতে লেনদেনের অভিযোগ

নগরীর দড়িখরবোনা এলাকার ধানসিড়ি পান স্টোরের মালিক মোজাফর হোসেন বলেন, বিদ্যুতের কারণে মেসের ছেলেরা বেশি মোমবাতি কিনছে।

এ ব্যাপারে রাজশাহী বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী হযরত আলী বলেন, বিদ্যুতের ঘাটতি আছে। তারপরও যা পাওয়া যায় তা রাজশাহী বিভাগের আটটি জেলায় ভাগ করে দিতে হচ্ছে। ফলে এ অবস্থা চলছে।

তিনি আরও বলেন, ‘রাজশাহী বিভাগে প্রতিদিন বিদ্যুতের প্রয়োজন হয় সাড়ে ৯০০ মেগাওয়ার্ড। কখনও আমাদের দেওয়া হয় সাড়ে ৫০০, কখনও বা সাড়ে ৬০০ থেকে ৭০০ মেগাওয়ার্ড বিদ্যুৎ। এর মধ্যে শুধু রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রতিদিন বিদ্যুতের প্রয়োজন হয় ৮৫ মেগাওয়ার্ড। দেওয়া হয় ৫০ থেকে ৬০ মেগাওয়ার্ড।’ আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ সমস্য সমাধান হয়ে যেতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।

 

/এসটি/