বগুড়ার গাবতলীর লাঠিগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি ফারুক আহমেদের কথা মতো কাজ না করায় অধ্যক্ষ রোকেয়া পারভীনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে বগুড়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অধ্যক্ষ রোকেয়া পারভীন এ অভিযোগ করেন। তিনি তার পদ ফিরে পেতে সংশ্লিষ্ট সবার হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এদিকে, অভিযুক্ত স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ফারুক আহমেদ তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো দৃঢ়তার সঙ্গে অস্বীকার করে বলেন, অধ্যক্ষ অর্থ আত্মসাৎ করায় ম্যানেজিং কমিটির সবার সিদ্ধান্তে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে অধ্যক্ষ রোকেয়া পারভীন বলেন, গত ছয় বছর ধরে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ফারুক আহমেদ বিদ্যালয়ের অর্থ আত্মসাতসহ বিভিন্ন অজুহাতে শিক্ষকদের কাছে টাকা আদায় করছেন। বিদ্যালয়ের প্রায় আট লাখ টাকা মূল্যের গাছ ও ঝড়ে পড়ে যাওয়া টিন বিক্রি করেছেন। শিক্ষার্থীদের বসার বেঞ্চ ও ভবন সংস্কার না করেই বিদ্যালয়ের ফান্ডের টাকা আত্মসাৎ করেন তিনি। তাকে অবৈধ পন্থায় আবারও সভাপতি করতে সহযোগিতার প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় অন্যায়ভাবে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। গ্রীষ্মের ছুটির শুরু হওয়ার আগে গত ১৪ মে পর্যন্ত কলেজে উপস্থিত থেকে কাজ করলেও গোপনে ম্যানেজিং কমিটির কিছু সদস্যকে দিয়ে ২৯ এপ্রিলের সভা দেখিয়ে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ম্যানেজিং কমিটির সদস্য শাহজাহান আলী বলেন, সভাপতির অবৈধ কার্যক্রমের ফলে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। আগের চেয়ে ছাত্রছাত্রী কমে গেছে। তিনবার সভাপতি থাকা অবস্থায় প্রতিষ্ঠানের লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
সহকারী অধ্যাপক মোফাজ্জল হোসেন বলেন, সভাপতি অর্থ আত্মসাৎ করায় প্রতিষ্ঠানের চেয়ার-বেঞ্চ শিক্ষকদের টাকায় বানাতে হয়েছে। এমনকি এবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ব্যয়ের জন্য শিক্ষকদের কাছে টাকা দাবি করেছিলেন। আবারও তাকে সভাপতি করার জন্য শিক্ষকদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে অধ্যক্ষ ছাড়াও ৪৪ জন শিক্ষক-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি ফারুক আহমেদ তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, অধ্যক্ষ রোকেয়া পারভীন অনেক টাকা আত্মসাৎ করেছেন। আয়-ব্যয়ের হিসাব দিতে ব্যর্থ হওয়ায় তাকে শোকজ করা হয়েছিল। এর জবাব দিতে না পারায় ম্যানেজিং কমিটির সবার সিদ্ধান্তে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি দায়িত্বে থাকলে তদন্ত কমিটি ঠিকমত কাজ করতে পারবে না। এ কারণে ও শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা চালু রাখার স্বার্থে তাকে সরিয়ে সহকারী অধ্যাপক শাফিউল আলমকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ করা হয়েছে। তদন্তে নির্দোষ প্রমাণিত হলে অধ্যক্ষ দায়িত্ব ফিরে পাবেন। এছাড়া বিএনপির লোকজন শিক্ষকদের উস্কে দিচ্ছেন বলে তিনি দাবি করেন।
আরও পড়ুন: আদিতমারীতে ভাইয়ের হাতে ভাই খুন, গ্রেফতার ২
/বিটি/টিএন/