হাফিজুরের মা হালিমা বেগম বলেন, মূল আসামি তো পুলিশ পেয়ে গেছে। তাই আমরা পুলিশকে আমার সন্তানকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু তারা আমার অসুস্থ ছেলেকে ছেড়ে না দিয়ে রিমান্ডে নিয়ে অত্যাচার করে মেরে ফেলেছে।
বোন মরিয়ম বলেন, আমার ভাই থ্যালেসিয়ামে (রক্ত শূন্যতাই) আক্রান্ত ছিল। তাকে তিন মাস পর পর রক্ত দিতে হতো।
হাফিজুরের বড় ভাই হাবিবুর রহমান বলেন, আমার ভাই নিজেই একা একা চলাফেরা করতে পারে না। সে আবার মানুষকে হত্যা করবে কীভাবে? কেউ শত্রুতা করে আমার ভাইকে ধরিয়ে দিয়েছে।
মৃত হাফিজুর রহমান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী ও মহানগরীর ১৯ নং ওয়ার্ড ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
আরও পড়ুন- অধ্যাপক রেজাউল হত্যা মামলায় গ্রেফতার শিবির নেতার মৃত্যু
এদিকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার শফিকুল ইসলাম বলেন, শিবির নেতা হাফিজুর রহমান আগে থেকেই রক্তস্বল্পতা রোগে আক্রান্ত ছিলেন। কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ১৭ মে তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপতালে পাঠানো হয়। এরপর থেকে তিনি হাসপাতালের প্রিজন সেলে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বৃহস্পতিবার ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তার মরদেহ বেলা ১২টার দিকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, রাবি শিক্ষক অধ্যাপক রেজাউল হত্যা মামলায় গত ২৩ এপ্রিল রাতে নগরীর ছোট বনগ্রাম এলাকা থেকে ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের শিবির সেক্রেটারি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের ছাত্র হাফিজুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। গত ২৮ এপ্রিল আদালত তাকে চারদিনের রিমান্ডে পাঠান। রিমান্ড শেষে তিনি কারাগারে ছিলেন। ১৭ মে তাকে রামেক হাসপাতালে পাঠানোর পর থেকে তিনি হাসপাতালের প্রিজন সেলে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
গত ২৩ এপ্রিল রাজশাহীর শালবাগান এলাকায় নিজ বাসা থেকে একটু দূরে অধ্যাপক রেজাউল করিমকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে নিহতের ছেলে রিয়াসাত ইমতিয়াজ সৌরভ বাদী হয়ে মহানগরীর বোয়ালিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অধিকতর তদন্তের জন্য ওই দিনই মহানগর ডিবি পুলিশের কাছে স্থানান্তর করা হয়। এই ঘটনায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন জামায়াতুল মুজাহেদিন বাংলাদেশ বা জেএমবির সদস্যরা সরাসরি জড়িত বলে জানিয়েছে পুলিশ।
/জেবি/এফএস/