উপশহর পুলিশ ফাঁড়ির টিএসআই শাফিউল জানান, পূর্ব কোনও বিরোধ বা নারীঘটিত কারণে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, সুলতানগঞ্জপাড়ার মৃত আমজাদ হোসেন ওরফে মুরগি আমজাদের ছেলে ও হত্যা মামলার প্রধান আসামী সুজন, স্ত্রী সাজেদা বেগম, ছেলে শাহীন ও অপর ছেলে রতনের স্ত্রী সেবা খাতুন। প্রধান আসামী সুজন বিকালে ভিক্ষুকের ছদ্মবেশে এলাকায় এলে স্থানীয়রা তাকে চিনতে পেরে পুলিশে দেয়।
এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, বগুড়া শহরের সুলতানগঞ্জপাড়া সরদারপাড়ার মুদি দোকানি লোকমান সরকারের ছয় ছেলেমেয়ের মধ্যে দ্বিতীয় ফজলার রহমান সরকার পেশায় মোটর শ্রমিক হলেও সম্প্রতি বেকার। শনিবার রাত ১০টার দিকে ফজলার বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন। রবিবার সকালে বাড়ি থেকে কিছু দুরে লয়া মসজিদ লেনে জনৈক আঞ্জুমান আরার নির্মাণাধীন বাড়ির মেঝেতে তার রক্তাক্ত লাশ পাওয়া যায়। পুলিশ সেখান থেকে লাশ বহনের একটি বস্তা উদ্ধার করে। পরে একই এলাকার মৃত মুরগি আমজাদের ছেলে সুজনের ঘরের মাটির মেঝে থেকে রক্ত মুছে ফেলার চিহ্ন দেখতে পাওয়া যায়। পুলিশ সুজনকে না পেলেও তার মা, ভাই ও ভাবিকে আটক ও আলামত সংগ্রহ করে।
টিএসআই জানান, পূর্ব বিরোধের জের ধরে সুজন ও অন্যরা শনিবার রাতে ফজলার রহমানকে যে কোনও প্রলোভনে ডেকে নিয়ে হত্যা করে। লাশ বস্তায় তুলে ফেলে দেয়। তার গলা কাটা, দুই চোখ উপড়ে ফেলা, ডান চোয়াল ও মুখে ধারালো অস্ত্রের কোপের আঘাত রয়েছে। রবিবার সকালে লয়া মসজিদ লেনের নির্মাণাধীন বাড়িতে তার লাশ পড়ে থাকতে শত শত মানুষ ভিড় করেন।
নিহতের বাবা লোকমান সরকার বাদী হয়ে এ বিষয়ে বগুড়া সদর থানায় সুজনসহ অজ্ঞাত একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
আরও পড়ুন:
/টিএন/এইচকে/