বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে অতি দরিদ্রদের কর্মসংস্থান

কর্মসূচিতে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

বগুড়াবগুড়ার সারিয়াকান্দিতে অতি দরিদ্রদের জন্য ৪০ দিনের কর্মসংস্থান কর্মসূচি প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে নামসর্বস্ব কাজ চলছে। কোথাও সাইনবোর্ড থাকলেও কাজ হয়না। কোন কোন প্রকল্পে স্কুলের শিক্ষার্থীদের দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে। এতে গ্রামবাসীদের প্রচন্ড ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সারওয়ার আলম জানান, একার পক্ষে সব প্রকল্প তদারকি করা সম্ভব নয়; এছাড়া কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিল দেওয়া হবে না।
পিআইও অফিস সূত্র জানায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে চলতি ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে প্রথম পর্যায়ে সারিয়াকান্দি উপজেলায় অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়। উপজেলার ১২ ইউনিয়নে ৩৫ প্রকল্প বাস্তবায়নে ৯৯ লাখ ৪৪ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নে এক হাজার ২৪৩ জন শ্রমিক নিযুক্ত করা হয়। গত ১৭ মে মঙ্গলবার সরেজমিন সারিয়াকান্দি উপজেলা সদর, কুতুবপুর, কর্ণিবাড়ি, চন্দনবাইশা ইউনিয়নে বিভিন্ন প্রকল্প এলাকা ঘুরে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র দেখা গেছে। সদর ইউনিয়নের দীঘলকান্দি গ্রামের তরফদারপাড়া থেকে বাঙালি নদীর ঘাট পর্যন্ত সড়ক সংস্কার প্রকল্পে ২০ জন শ্রমিকের কাজ করার কথা। সেখানে ১৩ জন শ্রমিক পাওয়া গেলেও এদের মধ্যে ৬ জন স্কুলের ছাত্র। প্রকল্পের দায়িত্বরত ইউপি সদস্য দুলাল তরফদার বলেন, এলাকায় লেবার সংকট এবং তালিকাভুক্ত হতদরিদ্র শ্রমিকেরা শারীরিকভাবে দুর্বল হওয়ায় তাদের পক্ষ থেকে ছাত্রদের পাঠানো হয়েছে।

কর্ণিবাড়ি ইউনিয়নের মথুরাপাড়া পাকা সড়ক হতে নদীর ঘাট পর্যন্ত সড়ক সংস্কার ও ঈদগাহ মাঠে মাটি ভরাটে ৪৫ জন শ্রমিক বরাদ্দ থাকলেও প্রকল্প এলাকায় কোন শ্রমিককে দেখা যায়নি। সড়কে মাটি কাটার কাজ শুরুই হয়নি। ঈদগাহ মাঠের উত্তর পাশে সামান্য মাটি ফেলা হয়েছে। এ ব্যাপারে ট্যাগ অফিসার ও উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি অফিসার শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রকল্প নিয়ে সংশ্লিষ্টদের বহু কারসাজি রয়েছে। তাই সাইড পরিদর্শন করার প্রয়োজন পড়ে না। ইউনিয়নের সচিব আব্বাস উদ্দিন বলেন, এই প্রকল্পের লেবার যমুনা নদীর ওপারে অন্য প্রকল্পে কাজ করছে তাই এখানে আজ শ্রমিক নেই। চন্দনবাইশা ইউনিয়নের ঘুঘুমারি গ্রামের আশরাফ প্রামাণিকের বাড়ি হতে আফজালের বাড়ি পর্যন্ত সড়ক সংস্কার প্রকল্প এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, ২৮ জন শ্রমিক কাজ করার কথা থাকলেও কেউ ছিলেন না। কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর ১০-১২ জন নারী শ্রমিক সেখানে আসেন। তারা জানান, এখানে মাটি কাটার কাজ করছেন; কিন্তু এক শ্রমিকের বাড়িতে আগুন লাগায় সবাই সেখানে গিয়েছিলেন। 

কুতুবপুর ইউনিয়নের বড় কুতুবপুর আমতলা পাকা সড়ক হতে সৈয়দের বাড়ি পর্যন্ত সড়ক সংস্কার এবং কাজলা নতুন সেতু হতে শাহজাহানের জমি পর্যন্ত সড়ক সংস্কার প্রকল্প এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, প্রকল্পের সাইনাবোর্ড লাগানো থাকলেও কোন শ্রমিক নেই। অপর একটি প্রকল্পে ৮৬ জন শ্রমিক কাজ করার কথা থাকলেও সেখানে ৩১ জনকে দেখা গেছে।

এসব অনিয়মের ব্যাপারে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সারওয়ার আলমের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও তিনি বলেন, প্রকল্প পরিবর্তন করে অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে। তাই সেখানে কাজ হচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, একার পক্ষে সব প্রকল্প তদারকি করা সম্ভব নয়। আর কাজ না হওয়া পর্যন্ত কোন প্রকল্পের বিল প্রদান করা হবেনা। তাই কোন অনিয়ম বা দুর্নীতির সুযোগ নেই। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, প্রকল্প কাজে অনিয়ম না হওয়ার জন্য পিআইওকে সার্বক্ষণিক তদারকি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রকল্পে স্কুলের ছাত্রদের কাজ করার বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখবেন বলে আশ্বাস দেন।

আরও পড়ুন: তানোরে ধানের বদলে সবজি চাষ, কৃষকের মুখে হাসি 

/টিএন/