আটকের ১৬ ঘণ্টা পর স্বীকার করলো পুলিশ

জেএমবি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে রাবি’র ২ শিক্ষার্থী আটক

আটকরাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) দুই শিক্ষার্থীকে আটকের আটকের ১৬ ঘণ্টা পর বিষয়টি স্বীকার করেছে পুলিশ। সোমবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও সহকারী কমিশনার ইফতেখায়ের আলম আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
আটকৃতরা হলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যলয়ের ক্রপ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল গাফফার ও মাহবুবুর আলম। এরা শিক্ষক রেজাউল হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতা করার দায়ে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে থাকা একই বিভাগের শিক্ষার্থী রহমতুল্লাহ ওরফে শাহিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু বলে একাধিক সূত্রমতে জানা গেছে।
ইফতেখায়ের আলম বলেন, ‘ওই দুই শিক্ষার্থীর জেএমবি সংশ্লিষ্টা রয়েছে, এমন তথ্যের ভিত্তিতে মহানগর ও ডিবি পুলিশের যৌথ অভিযানে তাদের আটক করা হয়।’
অধ্যাপক রেজাউল হত্যার ঘটনায় এদের আটক করা হয়েছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তাৎক্ষণিক কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি মহানগর পুলিশের এই মুখপাত্র।
শহীদ হবিবুর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক এসএম একরাম উল্যাহ বলেন, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী শহরে সংঘটিত খুনের ঘটনায় তাদের প্রতি সন্দেহ থাকার কথা পুলিশের পক্ষ থেকে আমাকে জানানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই ওই দুই শিক্ষার্থীকে হল থেকে আটক করে পুলিশ।

রবিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে শহীদ হবিবুর রহমান হলের ২৩৬ ও ৪৪২ নম্বর কক্ষ থেকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে রাবির আব্দুল গাফফার ও মাহবুবুর আলমকে আটক করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মজিবুল হক আজাদ খান বিষয়টি নিশ্চিত করলেও পুলিশ সোমবার বিকেল পর্যন্ত অস্বীকার করে আসছিল।

হল সূত্রে জানা যায়, শহীদ হবিবুর রহমান হলে রাতে রাজশাহী মহানগর ডিবি পুলিশের একটি দল এসে ২৩৬ নম্বর কক্ষ থেকে আব্দুল গাফফার ও ৪৪২ নম্বর কক্ষ থেকে মাহবুবুলকে আটক করে নিয়ে যায়। আব্দুল গফফারের রুমমেট জানান, রাতে কক্ষে এসে পুলিশ আব্দুল গফফারকে ধরে নিয়ে যায়। এ সময় তার মোবাইল ও ল্যাপটপ জব্দ করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক মজিবুল হক আজাদ খান বলেন, ‘দুই শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে বলে মহানগর পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষকে জানিয়েছে। তবে আটকের কারণ সম্পর্কে কিছুই জানায়নি পুলিশ।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হলের এক আবাসিক শিক্ষার্থী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রাত দুইটার দিকে স্টেশন বাজার থেকে হলে ফিরছিলাম। হল গেটে এসেই শুনতে পেলাম সাদা পোশাকে ওই দুই শিক্ষার্থীকে পুলিশ তুলে নিয়ে গেছে।’

ক্রপ সায়েন্স বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মোসলেহ্ উদ্দীন বলেন, ‘আব্দুল গফফার ও মাহবুব কে পুলিশ আটক করেছে বলে লোকমুখে শুনেছি। তবে তাদের কী কারণে আটক করেছে তা জানি না।’

হবিবুর রহামন হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক এক্রাম উল্যাহ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে আটকের বিষয়টি জানানো হয়েছে। আমরা খোঁজখবর নেওয়ার চেষ্টা করছি।’

১৫ মে একই বিভাগের তৃতীয় বর্ষের আরেক শিক্ষার্থী রহমতুল্লাহকে আটক করলেও প্রথমে পুলিশ তা অস্বীকার করেছিল। কিন্তু পরে অধ্যাপক রেজাউল হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছিল বলে সাংবাদিকদের জানানো হয়।

প্রসঙ্গত, ২৩ এপ্রিল নিজ বাসার অদূরে খুন হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজির অধ্যাপক এএফএম রেজাউল করিম সিদ্দিকী। গত ১৭ মে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার মো. শামসুদ্দিন বলেন, এ হত্যার ঘটনায়  জেএমবি জড়িত। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় এ পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে হাফিজুর রহমান নামে রাবির লোকপ্রশাসন বিভাগের এক ছাত্র পুলিশি হেফাজতে মারা গেছেন।

/এইচকে/আপ-এআর/