জয়পুরহাটে হঠাৎ করে চিনির দাম কেজিতে ৬/৮ টাকা বেড়ে গেছে। গত দশদিন আগে চিনি বিক্রি হয়েছে ৫২/৫৪ টাকায়। যা এখন বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজি দরে। আবার বেসরকারি কোম্পানির চিনি বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ৬২ টাকায়।
খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, পাইকারি বাজারে দাম বাড়ায় তাদেরও বেশি দামে চিনি বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে রমজানের আগে হঠাৎ চিনির দাম বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে সাধারণ মানুষ।
জানা গেছে, জয়পুরহাট চিনিকলে বর্তমানে চিনি মজুদ আছে ছয় হাজার ৪৯১ মেট্রিক টন। চিনি কলের পাইকারি ডিলার ১৭ জন ও খুচরা ডিলার ১২ জন। চলতি মাসে ডিলারদের জন্য বরাদ্দ ৪০ মেট্রিক টন। এরমধ্যে পাইকারি ৮ জন ডিলার ১৬ মেট্রিক টন চিনি তুলে নিলেও অন্যরা তুলতে আসেননি।
অন্যদিকে, চিনিকলে আখ চাষীদের পাওনা প্রায় ৬শ’ মেট্রিক টন চিনির মধ্যে গত ৬ এপ্রিল থেকে ৩১ মে পর্যন্ত প্রায় ২শ’ মেট্রিক টন চিনি তুলেছেন। আখ চাষীদের অভিযোগ, আগামী ২ জুনের মধ্যে চিনি তুলে নেওয়ার সময় বেঁধে দিয়েছে চিনিকল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু মাঠে কৃষি কাজের ব্যস্ততায় তারা চিনি তুলতে পারছেন না। এ অবস্থায় তারা চিনি সংগ্রহে সময় বাড়ানোর দাবি জানান।
জয়পুরহাট শহরের সবুজনগর এলাকার চাকরিজীবী আসাদুজ্জামান জানান, গত দশ দিন আগে তিনি জয়পুরহাটের পূর্ব বাজার থেকে ৫২ টাকা কেজি দরে দুই কেজি দেশি চিনি কিনেছেন। গত সোমবার একই দোকানে প্রতি কেজি চিনির দাম ৬০ টাকা শুনে একটু হতবাক হয়েছেন।
জেলার ক্ষেতলাল উপজেলা সদরের স্টেশনারি ব্যবসায়ী আব্দুল আলিম জানান, ক্ষেতলাল বাজারের বিভিন্ন দোকানে বেসরকারি কোম্পানির চিনি ৬২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
জয়পুরহাট চিনিকল সড়কের আব্দুস সাত্তার মার্কেটের হাসান ট্রেডার্সের ব্যবসায়ী সাজেদুর রহমান সবুজ জানান, জয়পুরহাট চিনিকলের চিনি তিনি পাইকারি ডিলারদের কাছ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে কিনে খুচরা ৫২ টাকায় বিক্রি করেছেন। কিন্তু এখন পাইকারি বাজারে সেই চিনিই কিনতে হচ্ছে ৫৮ টাকা কেজিতে। আর খরচ মিলিয়ে সে চিনি বিক্রি করছেন ৬০ টাকায়।
জয়পুরহাট পূর্ব বাজারের স্থানীয় ডিলার আব্দুস সালাম জানান, বেসরকারি কম্পানির ১৫ টন চিনি কেনার জন্য গত ২৬ মে তিনি সাত লাখ টাকা কোম্পানিতে জমা দেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তিনি সে চিনি পাননি। রমজানে চাহিদা বাড়ায় কোম্পানি থেকে চিনির দাম বাড়ানোর কথা জানানো হয়েছে।
চিনিকলের পাইকারি ডিলার আলহাজ শামসুল আলম জানান, চাহিদার তুলনায় করপোরেশন ও বেসরকারি কম্পানিগুলো থেকে বাজারে চিনি সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বাড়ছে। তবে সরবরাহ বাড়লে চিনির বাজার স্থিতিশীল হতে পারে।
বাজারে চিনির মূল্য বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে জয়পুরহাট চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মোস্তফা কামাল বলেন, বাজার স্থিতিশীল রাখতে তারা ৫২ টাকা কেজি দরে খোলা বাজারের বিভিন্ন পয়েন্টে প্যাকেট চিনি সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছেন। যা শিগগির কার্যকর করা হবে।
/এসএনএইচ/টিএন/