অভিযোগে জানা গেছে, রবিউল ইসলাম লিটন ধুনটের পার্শ্ববর্তী সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার নাটুয়ারপাড়ার জনৈক মোজাম্মেল হকের ছেলে। তার নানার বাড়ি বগুড়ার ধুনটের ভান্ডারবাড়ি গ্রামে। তিনি গত ২০০৪ সালে নাটুয়ারপাড়া গুলের মোড় এলাকায় একতা ও পল্লবী হাউজিং প্রতিষ্ঠানের অফিস স্থাপন করেন। এমডি পরিচয়ে ২০১৫ সাল পর্যন্ত গত ১১ বছরে ৭০-৮০ জন কর্মী নিয়োগ করেন।
অধিক মুনাফা দেবার প্রলোভনে কাজিপুরের যমুনা নদীর চরাঞ্চলের নাটুয়ারপাড়া, খাসরাজবাড়ি, চরগিরিশ, মুনসুর নগর, নিচিন্তপুর ও মেসড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের চার হাজার গ্রাহকের কাছে ২২ কোটি টাকা আমানত সংগ্রহ করেন। গ্রাহকদের সঞ্চিত অর্থ ফেরত না দিয়ে গত বছরের শেষের দিকে ওই ভুয়া প্রতিষ্ঠানের এমডি লিটন পালিয়ে যান। তিনি ঢাকার মিরপুর এলাকায় বাড়ি নির্মাণ করে বিলাসবহুল জীবন-যাপন শুরু করেন। এদিকে সহায়-সম্বল বিক্রি করে সঞ্চয় করা টাকা ফেরত পেতে গ্রাহকরা দ্বারে দ্বারে ঘুরে ব্যর্থ হন।
শুক্রবার (৩ জুন) লিটনের বাবা মোজাম্মেল হক ঢাকায় ইন্তেকাল করেন। বাবা মৃত্যুর আগে তার লাশ বগুড়ার ধুনট উপজেলার ভান্ডারবাড়ি গ্রামে শ্বশুরের পারিবারিক গোরস্থানে দাফনের অনুরোধ করে যান। গত শনিবার লিটন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাবার মৃতদেহ দাফন করতে ভান্ডারবাড়ি গ্রামে নানা-মামার বাড়িতে আসেন। এদিকে প্রতারণার শিকার কাজিপুরের শতাধিক মানুষ ধুনটে এসে ওই বাড়ি ঘেরাও করেন।
ক্ষতিগ্রস্ত আলমগীর হোসেন, রফিকুল ইসলাম, আবদুল ওয়াহাব, আবদুল মোমিন প্রমুখ অভিযোগ করেন, প্রতারক লিটন গত ১১ বছরে ভুয়া প্রতিষ্ঠান খুলে চরাঞ্চলের চার হাজার অসহায় মানুষের কাছ থেকে অধিক মুনাফা দেবার নামে ২২ কোটি টাকা আমানত সংগ্রহ করেন। পরে টাকাগুলো ফেরত না দিয়ে তিনি এলাকা ছেড়ে স্বপরিবারে ঢাকায় চলে যান। লিটনকে জনরোধ থেকে বাঁচাতে ধুনট থানার এসআই ওয়াদুদ আলী তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন। পুলিশ কর্মকর্তা জানান, টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আটক ভুয়া প্রতিষ্ঠানের এমডি লিটনকে সিরাজগঞ্জের কাজিপুর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: লালমনিরহাটে ৬০টি অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন,মামলা
/এইচকে/