সিরাজগঞ্জ শহরের বড় বাজারে মঙ্গলবার ছোলা কিনতে গিয়েছিলেন আব্দুল জলিল। মেসার্স রহমান স্টোরের গিয়ে এক কেজি ভালো ছোলার দাম কত প্রশ্ন করতেই দোকানি দাম হাকেন ৯০ টাকা। এর কমে তিনি দিতে পারবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন। ঠিক ওই সময় বাজার পরিদর্শনে এলেন জেলা প্রশাসক মো. বিল্লাল হোসেন ও পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন আহমেদ। তারা এসে বাজার বণিক সমিতির লোকজনকে নিয়ে বিভিন্ন দোকানে যান। শুরুতেই এলেন মেসার্স রহমান স্টোরে। জানতে চাইলেন ছোলার দাম। এসময় দোকানি ছোলা কেজি প্রতি ৮৫ টাকা বলায় আব্দুল জলিল সঙ্গে সঙ্গে ৫ কেজি কিনে ফেললেন।
শুধু রহমান স্টোর নয়, পুরো বাজারের প্রায় সব কাঁচা ও মুদি দোকানিরা প্রশাসনের বড় দু’কর্মকর্তাকে দেখে সতর্ক হতে শুরু করেলেন। এক কেজি বেগুনোর দাম সকালে ৬০/৭০ টাকা চাওয়া হয়। কিন্তু ওই সময় তা নেমে আসে ৩০ থেকে ৫০ টাকায়। রমজানের প্রথম দিনে জেলা প্রশাসনের সর্বোচ্চ দু’কর্মকর্তা সরেজমিনে বাজারে আসায় ক্রেতারা বেশ সুবিধা পেয়েছেন। এসময় দোকানে ঝুলানো বাজার দরের তালিকায় তারতম্য দেখে দোকানিদের সতর্ক করলেন জেলা প্রশাসক। ক্রেতাদের অনেকেই প্রশাসনের এ ধরনের পরিদর্শন চালু রাখার জন্য দাবি জানান।
বাজার বণিক সমিতির সভাপতি সেলিম আহম্মেদ ও সাধারণ সম্পাদক জিন্নাহসহ বেশ কজন নেতা এসময় জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে আশ্বস্ত করেন জিনিসপত্রের দামের তারতম্য নিয়ন্ত্রণে তারাও নিয়মিত বাজার মনিটরিং করবেন। এসময় এনডিসি, জেলা মার্কেটিং অফিসার আইয়ুব আলী, সিভিল সার্জন অফিসের সেনিটারী ইন্সপেক্টার মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ভ্রাম্যমাণ দলে উপস্থিত ছিলেন।
ফুটপথ বন্ধ করে দোকান তৈরি করে পথচারীদের বিড়ম্বনায় ফেলায় বড় বাজারে দু’পাশের সড়কের দোকানিদের এসময়ে সতর্ক করেন পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসক।
তারা বলেন, প্রাথমিকভাবে সতর্ক করে গেলাম। নিজেরা সংশোধন না হলে আগামীতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। মৌসুমি ফলে ফরমালিন মেশানো হচ্ছে কিনা ভ্রাম্যমাণ আদালত সেটিও দেখবে।
আরও পড়ুন:
ঝিনাইদহে ৬ মাসে তিন ভিন্ন মতাবলম্বী খুন, তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই
বগুড়ায় মসজিদে হামলা মামলার আসামি ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত
/এসটি/