স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, আধিপত্য বিস্তার ও খাদ্য গুদামে ধান সরবরাহ নিয়ে আওয়ামী লীগ ও শ্রমিকলীগের নেতাদের মধ্যে বিরোধে এ ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গাবতলী খাদ্য গুদামে ধান সরবরাহ দেওয়া নিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বিআরডিবির চেয়ারম্যান এইচ আজম খানের সঙ্গে উপজেলা শ্রমিকলীগের বহিষ্কৃত যুগ্ম আহ্বায়ক জাফরু পাইকারের বিরোধ চলে আসছিল।
তবে কেউ কেউ বলেছেন, গত ২৩ এপ্রিল গাবতলীতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থীকে সমর্থন করা নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের দুই নেতার মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এরই জেরে বুধবার রাত ৯.৪০ মিনিটের দিকে দুর্বৃত্তরা উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিআরডিবি অফিসের দেয়ালে একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়।
উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আজম খান অভিযোগ করেন, গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে অবস্থায় নেওয়ায় উপজেলা শ্রমিক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জাফরু পাইকারকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়। এ জন্য তিনি তাকে (আজম) দায়ী করেন এবং গত কয়েকদিন ধরে হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছিল। এর জের ধরে জাফরু পাইকার বা তার লোকজন বিআরডিবি অফিসে হামলা চালায়। এসময় ওই অফিসে কেউ ছিল না।
তবে জাফরু পাইকার তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগটি অস্বীকার করে বলেন, ঘটনার সময় তিনি ঢাকায় এমপির বাসায় ছিলেন। অঙ্গ সংগঠনের অধিকার আদায় আন্দোলন করায় এটা আওয়ামী লীগ সভাপতির ষড়যন্ত্র ও মিথ্যাচার।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান হাবিব বলেন, বিষয়টি তদন্তের জন্য ওসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গাবতলী থানার ওসি শাহিদ মাহমুদ খান জানান, সরকারি খাদ্য গুদামে ধান দেওয়া নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে আওয়ামী লীগ সভাপতি আজম খান ও শ্রমিক লীগ নেতা জাফরু পাইকারের লোকজনের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এর ধারাবাহিকতায় উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আবদুল গফুরকে লাঞ্ছিত করা হলে তিনি থানায় জাফরু পাইকারসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন।
ওসির ধারণা, ওই ঘটনার জের ধরেই ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এ ব্যাপারে আজম খান মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
আরও পড়ুন: রমেকে আগুন, আহত ৩০
/এআর/টিএন/