বগুড়ায় সরকারি ধান ক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগ

বগুড়াবগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় সরকারিভাবে ইরি ও বোরো ধান সংগ্রহে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কৃষকের বদলে ফড়িয়া মহাজনদের মাধ্যমে সরকারি ক্রয় কেন্দ্রে ধান দিচ্ছেন সরকার দলীয় নেতাকর্মীরা। তাদের দেওয়া ধানের সবই আনা হয়েছে অন্য জেলা থেকে, এতে ভেস্তে যাচ্ছে উপজেলার কোটা প্রথা। এছাড়া নতুন ধানের পরিবর্তে পুরনো ধান কেনারও অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, আদমদীঘি উপজেলায় চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে সরকারিভাবে ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে দুই হাজার ৮৫০ মেট্রিক টন। কিন্তু এবার মুনাফা বেশি হওয়ার কারণে হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন সরকার দলীয় নেতাকর্মীরা। তাদের দাপটে সাধারণ কৃষকরা ক্রয় কেন্দ্রের আশেপাশেই ভিড়তে পারছেন না। কেউ ক্রয় কেন্দ্রে গেলেও ধান কেনা শেষ বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
কৃষকদের অভিযোগ, উপজেলার চিহ্নিত ফড়িয়ারা (টেস্ট রিলিফ ও কাজের বিনিময়ে খাদ্য প্রকল্পের চাল ও গম ক্রেতা) এবং সরকার দলীয় নেতাকর্মীরা সাধারণ কৃষকদের কাছ থেকে কৃষি কার্ড, জাতীয় পরিচয়পত্র, ছবি এবং ব্যাংক হিসাবের চেক হাতিয়ে নিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে যেসব কৃষকের ব্যাংক হিসাব নেই সেসব কৃষককে না জানিয়েই তার নামে ব্যাংকে হিসাব খুলে লেনদেন করা হচ্ছে। কৃষকের নামে ফড়িয়া ও সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের ধান দেওয়ার কাজে সহযোগিতা করছে খোদ উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট খাদ্য গুদামের ইনচার্জ।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সেকেন্দার রবিউল ইসলাম বলেন, কৃষি বিভাগ থেকে দেওয়া কৃষি কার্ড মোতাবেক ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে। খাদ্য গুদামে কৃষক না ফড়িয়া ধান নিয়ে যাচ্ছে তা আমার দেখার বিষয় নয়। তবে অন্য জেলা থেকে আনা ধান ক্রয়ের অভিযোগ স্বীকার করেছেন তিনি।

কৃষি কর্মকর্তা আরও বলেন, এই উপজেলার কোন কৃষক কি পরিমান ধান বিক্রি করতে পারবেন সেটি নির্ধারণ করার দায়িত্ব কৃষি বিভাগের। কিন্তু এ উপজেলার ক্রয় কমিটি সে নির্দেশ মানছেন না। উল্টো খাদ্য বিভাগ থেকে তালিকা দেওয়া হচ্ছে কৃষি বিভাগেও।

এদিকে ভুক্তভোগী সাধারণ কৃষকদের দাবি, খাদ্য বিভাগ এবং ব্যাংকে দেওয়া তালিকার নামের পাশের স্বাক্ষর যাচাই ও কৃষককে জিজ্ঞাসা করে ধান কিনতে হবে।

আরও পড়ুন:

দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করতে চেয়েছিল খুনিরা: পুলিশ

সাঁড়াশি অভিযানে সারাদেশে আটক সহস্রাধিক

এবার পাবনায় আশ্রমের সেবককে কুপিয়ে হত্যা

/এমও/টিএন/আপ-এনএস/