গত সোমবার রাতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে হাইকোর্টের কথিত অনুমতির নামে আবারও শুরু হয়েছে হাউজি ও জুয়া খেলা। ফলে রোজার মধ্যে প্রকাশ্য জুয়া চলায় সাধারণ জনগণের মাঝে প্রচণ্ড ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, সরকারি দলের কতিপয় নেতা নিজেরা লাভবান হতে আইনজীবীর মাধ্যমে হাইকোর্টকে ভুল বুঝিয়ে ইনডোর গেমের নামে হাউজি ও বিভিন্ন ধরনের জুয়ার অনুমতি লাভ করেন। হাইকোর্টের অনুমতির নামে গত দেড় বছরের বেশি সময় ধরে শহরের বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে হাউজি ও জুয়ার আসর বসানো হচ্ছে। বর্তমানে শহরের কামারগাড়ি এলাকায় এসব চলছে। সরকারি বিদ্যুতের খুঁটি থেকে সংযোগ নিয়ে পুরো এলাকা আলোকিত করা হয়েছে। প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে শেষ রাত পর্যন্ত হাউজির পাশাপাশি ডাবু, ওয়ানটেন, চড়কিসহ বিভিন্ন জুয়া চলছে।
শুধু বগুড়ার নয়, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে যানবাহন নিয়ে শত শত জুয়াড়ি জুয়া মেলায় আসেন। জুয়াড়িদের চিৎকার ও চেঁচামেচিতে আশপাশের জনগণ এবং সুইপার কলোনিতে বসবাসকারীদের জীবন অতিষ্ট হয়ে উঠেছে। তাদের সন্তানরা ঠিকমত লেখাপড়া ও ঘুমাতে পারেন না। অনেক সময় বাচ্চারা ঘুম থেকে চিৎকার করে উঠে বলেও শোনা যাচ্ছে।
জুয়া খেলা নিয়ে স্থানীয় পত্রিকায় লেখালেখি হলেও হাইকোর্টের অনুমতি থাকায় বাধা দিলে আদালত অবমাননা হবে এমন অজুহাতে পুলিশ প্রশাসন এ জুয়ার বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেয় না। এ সুযোগে সাংবাদিক, গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন ছাড়াও প্রশাসনের লোকজন ফ্রি জুয়া খেলতে আসেন। প্রতিরাতে পুলিশ, সাংবাদিক ও অন্যদের কাছে বকশিসের টাকা পৌঁছে যায়।
জানা গেছে, মেলা দেখভালের জন্য কয়েকজন সাংবাদিক নামধারীকেও জুয়া মেলায় রাখা হয়েছে। তারা অন্য সাংবাদিক ও প্রশাসনকে ম্যানেজের দায়িত্ব পালন করে থাকেন। দীর্ঘদিন ধরে জুয়া চলায় আশপাশের আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এ মেলাকে কেন্দ্র করে আশপাশে ইয়াবা, ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন মাদকের ব্যবসা রমরমা হয়েছে। প্রতিরাতেই ছিনতাই ও চুরি হচ্ছে।
সরকারি দলের নেতাদের জুয়া মেলা বন্ধ করতে ডিসির নির্দেশে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা অভিযান চালাবেন এমন খবর পেয়ে সোমবার রাত ১১টার দিকে মেলা প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা গেছে, শত শত জুয়াড়ির ভিড়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (এনডিসি) হাবিবুল হাসান রুমি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসেন হাইকোর্টের কাগজপত্র দেখছেন। ম্যাজিস্ট্রেট আসায় কিছু সময়ের জন্য জুয়া বন্ধ রাখা হয়। এর আগে জুয়ার অন্যান্য সরঞ্জাম সরিয়ে ফেলা হয়। জুয়ার অন্যতম আয়োজক আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল মান্নান বিশাল এলাকা জুড়ে বসানো জুয়ার ঘাঁটি ম্যাজিস্ট্রেটদের দেখান। তিনি (মান্নান) জানান, তারা হাইকোর্টের অনুমতিতে ইনডোর গেম চালাচ্ছেন। এক পর্যায়ে ম্যাজিস্ট্রেট হাবিবুল হাসান রুমি এসব ইনডোর গেম না হওয়ায় হাউজির সরঞ্জাম জব্দ করেন এবং আয়োজকদের কাগজপত্র নিয়ে মঙ্গলবার জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আসতে নির্দেশ দেন। ততক্ষণ জুয়া বন্ধ রাখতে বলেন।
এদিকে ম্যাজিস্ট্রেট ও ফোর্স চলে যাওয়ার পর তাদের নির্দেশ অমান্য করে আয়োজকরা অন্যখান থেকে সরঞ্জাম এনে জুয়া ও হাউজি চালু করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ম্যাজিস্ট্রেট চলে যাওয়ার পর সোমবার রাতভর জুয়া ও হাউজি চলেছে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (এনডিসি) হাবিবুল হাসান রুমি জানান, ইনডোর গেম না হওয়ায় সোমবার রাতে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে অভিযান চালিয়ে হাউজির সরঞ্জাম জব্ধ করা হয়েছে। মঙ্গলবার জেলা প্রশাসককে মেলার অনুমতির কাগজপত্র দেখানো পর্যন্ত হাউজি বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দুপুর পর্যন্ত তারা সে নির্দেশ পালন করেননি।
তিনি আরও বলেন, ভ্রাম্যমান আদালত হাউজি বন্ধ করে দেয়। এরপর তারা চালু করেছে কি না তা জানা নেই।
আয়োজক আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল মান্নান জানান, তাদের অপরাধ না থাকা ও মহামান্য হাইকোর্টের অনুমতি থাকায় ভ্রাম্যমান আদালত হাউজি বন্ধ দিলেও তারা আবার চালু করেছেন। এখানে তারা আদালতের নির্দেশ অমান্য করেননি।
আরও পড়ুন: রিমান্ড শেষে জেএমবি নেতা ফুয়াদ কারাগারে
/এসএনএইচ/টিএন/আপ-এআর/