ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদকে ঘিরে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ কোটি টাকার ব্যবসা হয়। তাদের ধারণা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার কারণে এবার ব্যবসা আরো ভালো হবে। তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে প্রচুর পরিমাণে ভারতীয় শাড়ি আসায় ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেল, প্রায় ১২/১৪ হাজার নারী রাজশাহী অঞ্চলে এই কাজের সঙ্গে যুক্ত। এই বিপুল সংখ্যার বেশিরভাগ নারী বাড়িতে বসে কাজের অর্ডার নিয়ে সুঁই সুতোর ফোঁড়নে আঁকছেন নতুন ডিজাইন।
সিল্ক পল্লীতে কাজ করা নারী শ্রমিক আখতারুন নেসা মালা জানান, ভোর ৬টায় এসে একবারে রাত ১২টায় কাজ শেষ করে বাসায় যাই। এর মধ্যে শুধু ইফতারের সময় কিছুটা বিরতি পাওয়া যায়। ক্রেতাদের চাহিদাকে প্রাধান্য দিয়ে এবারও ঈদের বাজারে এসেছে বাহারি ডিজাইনের পোশাক।
এর মধ্যেই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ক্রেতারা আসতে শুরু করেছেন রাজশাহীর সিল্ক হাউসগুলোয়। বিসিক শিল্প নগরী এলাকায় রেশম কারখানাগুলোতেই গড়ে উঠেছে ১৩টি শো-রুম। আমেনা বেগম নামের এক সেনা কর্মকর্তার স্ত্রী ঢাকা থেকে রাজশাহীতে এসেছেন রেশমের পোশাক কিনতে। সপুরা সিল্কের শো-রুম থেকে তিনি ২৫ হাজার টাকার কেনাকাটা করেছেন।
সপুরা সিল্ক মিলস লিমিটেডের চেয়ারম্যান সদর আলী জানান, রেশমের কারখানা এক সময় শুধু শাড়ি ভিত্তিক ছিল। কিন্তু নারীদের মধ্যে শাড়ি পড়ার প্রচলন কমে যাওয়ায় এখন থ্রিপিচ তৈরি করতে হচ্ছে। এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতি বছর আধুনিক ও নতুন নতুন ডিজাইনের থ্রি পিস, ওড়না, হিজাব, পাঞ্জাবি, শার্ট ও ফতুয়া তৈরি করা হয়।
সদর আলী আরও জানান, ঈদের প্রস্তুতি এক বছর আগে থেকে নেওয়া হয়। ডিজাইনের বিষয়ে চলতি ট্রেন্ড, সিনেমায় জনপ্রিয় পোশাক ও আবহাওয়াকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ জন্য নিজস্ব কারখানার ২০০ শ্রমিক ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলার প্রায় ১০ হাজার নারী এই শিল্পের সঙ্গে কাজ করেন। তারা অর্ডার নিয়ে বাড়িতে গিয়ে কাজ করেন।
এছাড়া উষা সিল্ক ক্রেতাদের জন্য রেখেছেন বিভিন্ন ধরনের অফার। এতে ১০ হাজার টাকার পণ্য কিনলে ক্রেতারা পাবেন দুই বছরের জন্য উষার সিল্কের প্ল্যাটিনাম মেম্বারশিপ। প্ল্যাটিনাম মেম্বাররা সব পণ্যে ১০ শতাংশ ডিসকাউন্ট পাবেন। এছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন ডিসকাউন্ট।
উষা সিল্ক ইন্ডাস্ট্রিজের জেনারেল ম্যানেজার জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘রাজশাহী ও ঢাকা দুই জায়গাতেই আমাদের বিক্রি ভালো হচ্ছে। ঢাকায় শোরুম থাকার পরও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ক্রেতারা এসে পোশাক কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। অনেকে পাইকারিভাবে অনেক পণ্য কিনে বিদেশে উপহার পাঠাচ্ছেন।’
মহুয়া সিল্কের প্রোপাইটার ও বাংলাদেশ রেশম শিল্প মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আরিফ আহসান টিটো বলেন, তার দোকানে সিল্কের শাড়ি ও পাঞ্জাবি বেশি বিক্রি হচ্ছে। তিনি সব পণ্যের ওপর ১৫ শতাংশ ছাড় দিয়েছেন।
সপুরা সিল্কের শো-রুমের ম্যানেজার সাইদুর রহমান জানান, ঈদকে সামনে রেখে এবং সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে রেশম কাপড়ের শাড়ি ছাড়াও নতুন নতুন কালার ও ডিজাইনের পোশাক তৈরি করা হয়েছে। বিশেষ করে সব ঋতুতে পড়ার উপযোগী করে এবার বিভিন্ন ডিজাইনের মসলিন সিল্কের পোশাক তৈরি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
জমে উঠেছে ঈদ বাজার, জনপ্রিয়তার শীর্ষে ভারতীয় পোশাক
/বিটি/এসটি/