সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবদলের সভাপতি ভিপি আইনুল হককে (৪৮) গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ২০১০ সালের ১১ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম পাড়ে সয়দাবাদ মুলবাড়ি রেল ক্রসিং এলাকায় ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের পাশে খালেদা জিয়ার জনসভায় ট্রেন পোড়ানো ঘটনার মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়।
সিরাজগঞ্জ গোয়েন্দা পুলিশের সেকেন্ড অফিসার (ডিবি) উপ-পরিদর্শক রওশন আলী বলেন, গ্রেফতার আইনুল হক সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার মুলিবাড়ীতে খালেদা জিয়ার জনসভা চলাকালে ট্রেন পোড়ানোর মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধাদান ও নাশকতার অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে।
এদিকে, ভিপি আইনুল হককে গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা জানিয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুল ইসলাম বলেন, তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের একটি উন্নয়ন সভার এক মিটিংয়ে অংশ নিয়েছিলেন। সেখান থেকে ডেকে নিয়ে ডিবি পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ট্রেন পোড়ানো ঘটনায় চার্জশিটভুক্ত পলাতক আসামি হলেও তিনি পুলিশ ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে মিলতাল করে রায়গঞ্জে প্রকাশ্যেই ঘুরে বেড়াতেন। এমনকি, উপজেলা পরিষদসহ উপজেলা ও জেলার বিভিন্ন উন্নয়ন সভা ও আইনশৃঙ্খলা সভায় নিয়মিত যোগদান করতেন। সম্প্রতি পুলিশের বিশেষ অভিযানেও তিনি ধরা পড়েননি। কিন্তু, গত কদিন আগে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে নানাবিধ দ্বন্দ্বের কারণে অবশেষে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করলো।
এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাদী আলমাজী জিন্নাহ বলেন, আমাদের সঙ্গে তার কোনও প্রকার মিলতাল ছিল না। আমাদের দুর্ভাগ্য সে এতদিন ধরে পড়েনি। সে এতদিন জামিনও নেয়নি। গত ৫ বছরে বেশ কজন ওসি পরিবর্তন হয়েছে তারপরেও এতদিন ধরা পড়েনি। তার কারণে আমি উপজেলা উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলা সভাও বেশ ক’বার বয়কট করেছি।
রায়গঞ্জ থানার ওসি রাশেদুল ইসলাম বিশ্বাস এ প্রসঙ্গে বলেন, এতদিন কি হয়েছে তা জানি না। নতুন করে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়ায় তাকে আটক করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ওসির বদলি ঠেকাতে জনতার মহাসড়ক অবরোধ!
/বিটি/