বগুড়ায় বিদেশিদের নিরাপত্তা জোরদার

বগুড়াগুলশান হামলার পর বগুড়ায় অবস্থানকারী ২০২ জন বিদেশি নাগরিকদের ওপর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তাদেরকে সতর্কভাবে চলাফেরা করতে পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ। এদিকে ঘর বা কর্মস্থল থেকে বের হলেই নিরাপত্তার স্বার্থে সাদা পোশাকে পুলিশ তাদের অনুসরণ করছে।
এর আগে, গত বছরের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে রাজধানী গুলশানে ইতালিয়ান তাভেল্লা সিজার এবং রংপুরের আলুটারী এলাকায় জাপানি নাগরিক ওসি কুনিও হত্যাকাণ্ডের পর ১৩৭ জন বিদেশির নিরাপত্তায় প্রশাসন বিশেষ টিম গঠন করেছিল।
বগুড়া পুলিশের বিশেষ শাখার সূত্র জানায়, বর্তমানে এ জেলায় বিভিন্ন দেশের ২০২ জন নাগরিক বসবাস করেন। এদের অনেকে শিক্ষার্থী। তবে ছুটিসহ নানা কারণে যাতায়াত করায় এর সংখ্যা কমবেশি হয়ে থাকে। গত বছরের অক্টোবরের হিসাব অনুসারে নেপালের ৫৫ জন, ভারতের ৪৫ জন, পাকিস্তানের ১৩ জন, চীনের ৮ জন, শ্রীলঙ্কার ৩ জন, তুরস্কের ২ জন, যুক্তরাজ্যের ২ জন এবং ফ্রান্স, জাপান, ইন্দোনেশিয়া, আমেরিকা, কোরিয়া, সুইজারল্যান্ড, কানাডা, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রাজিলের ১ জন করে নাগরিক এ জেলায় বসবাস করেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন দেশের আরও নাগরিক এসেছেন। নেপালের ৫৫ জন বেসরকারি টিএমএসএস মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থী। ভারতের ৪৫ জন নাগরিকের মধ্যে ১৮ জন শিক্ষার্থী এবং অবশিষ্টরা অটো রাইস মিল এবং ভারত থেকে মেশিনারিজ এনে প্রতিষ্ঠিত শিল্প কারখানায় কর্মরত রয়েছে। পাকিস্তানের ১৩ জন সরকারি ও বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে অধ্যয়নরত। বর্তমানে এদের মধ্যে বগুড়া মেডিক্যাল কলেজে পড়ছেন ৭ জন। এছাড়া ফ্রান্স, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, কোরিয়া, শ্রীলঙ্কা, চীন, তুরস্ক, যুক্তরাজ্য, কানাডা, দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিকরা নিজ নিজ দেশের অর্থায়নে পরিচালিত ব্যবসা, শিল্প বা এনজিও প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন।

বগুড়া টিএমএসএস মেডিক্যাল কলেজের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, এখানে বিদেশি ৫৫ জন ছাত্র-ছাত্রী লেখাপড়া করেন। অধিকাংশ শিক্ষার্থী হোস্টেলে আছেন। তারা সকলে ভালো ও নিরাপদে আছেন। তাদের জন্য বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বগুড়া মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর একেএম আহসান হাবিব জানান, বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠানে ৭ জন পাকিস্তানি শিক্ষার্থী রয়েছে। নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে হোস্টেলে আছেন।

বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পশ্চিম) সায়ফুজ্জামান ফারুকী জানান, এ জেলায় বিদেশি নাগরিকদের উপস্থিতি সংখ্যা সবসময় এক থাকে না। অফিস বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটি থাকলে অনেকে দেশে চলে যান। এরপরও অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। তাদের বসবাসের স্থানগুলো সর্বোচ্চ নজরদারির মধ্যে রাখা হচ্ছে। তারা ঘর বা কর্মস্থল থেকে বের হলেই নিরাপত্তার স্বার্থে সাদা পোশাকে পুলিশ তাদের অনুসরণ করছে।

আরও পড়ুন: মিতু হত্যা মামলা: ৩ আসামি ৩ দিনের রিমান্ডে 

/এআর/