উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সারোয়ার আলম জানান, ৯ ইউনিয়নের ৮৫ গ্রামের প্রায় ৮৬ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
মঙ্গলবার সকালে কুতুবপুর ইউনিয়নের ধলিরকান্দি গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, অধিকাংশ বাড়িতেই হাঁটু থেকে গলা পর্যন্ত বন্যার পানি।
৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হেলাল উদ্দিন জানান, প্রায় ৩ সপ্তাহ আগে ধলিরকান্দি গ্রামে বন্যার পানি ঢুকেছে। এ গ্রামের প্রায় ৫০০ পরিবারের ২ হাজার মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। সোমবার পর্যন্ত ১০০ পরিবার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে।
এদিকে বন্যা পরিস্থিতির কারণে বন্ধ রয়েছে উপজেলার ৬৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান। তলিয়ে গেছে বিপুল পরিমাণ ফসলি জমি। বন্যা দুর্গত এলাকায় নলকুপগুলো পানিতে ডুবে গেছে। এতে বিশুদ্ধ পানি এবং গো খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। অনেকে ডুবে যাওয়ার ঘরবাড়ি ফেলে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেলেও কেউ কেউ সহায়-সম্বল ও গবাদিপশুর মায়ায় সেখানেই অবস্থান করছেন। সরকারিভাবে কিছু ত্রাণ দেওয়া হলেও তা অপ্রতুল বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কামরুজ্জামান জানান, ৩ হাজার ৫০৫ হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসল বন্যার পানিতে ডুবে গেছে।
শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, বন্যার কারণে ৫টি উচ্চ বিদ্যালয়, ১টি মাদ্রাসা ও ৬১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।
এদিকে, সোনাতলা উপজেলাতেও বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। সোনাতলা সদরের আংশিক, জোড়গাছা, মধুপুর, তেকানীচুকাইনগর ও পাকুল্যা ইউনিয়নে ৪৯০ হেক্টর পাট, ২৬৫ হেক্টর আউশ, ২৪০ হেক্টর রোপা আমন, ১৫ হেক্টর বীজতলা, ১০ হেক্টর শাকসবজি বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। পানি উঠেছে ১৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। মহেশপাড়া আব্দুল মান্নান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ ও তেকানীচুকাইনগর মাদ্রাসায় পাঠদান বন্ধ রয়েছে।
/এনএস/এমএনএইচ/