নাম ও পোশাক বদলে চালু আছে রাজশাহীর পিস স্কুল

Rajshahi Peace School Photo 04.08 (2)

সারাদেশে সরকার ইনভাইট পিস লিমিটেডের প্রতিষ্ঠান পিস স্কুলের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করলেও নাম ও শিক্ষার্থীদের পোশাক বদলে চালু আছে রাজশাহীর পিস স্কুল। পিস নামটি নিয়ে মিডিয়ায় যখন বিতর্ক ও সমালোচনা হচ্ছে, তখন পরিচালনা পর্ষদসহ সব ঠিক রেখে ১৪ জুলাই স্কুলটি হয়ে যায় লিজেন্ড অ্যাকাডেমি।

এ ব্যাপারে এই প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী কর্মকর্তা তৌফিকুর রহমান বলেন, ‘নামটাকে গুরুত্ব না দিয়ে প্রতিষ্ঠানকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া পিস স্কুল প্রতিষ্ঠার পর ইনভাইট পিস লিমিটেডের কাছ থেকে যে ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার কথা ছিল তা আমরা পাইনি। আমরা আগেই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার কথা চিন্তা করেছিলাম। মিডিয়ায় ‘পিস’-শব্দটা নিয়ে বির্তক সৃষ্টি হওয়ার পর আমরা প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করে ফেলেছি।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সব কিছু পরিবর্তন করা যায় না। যেমন সরকারের কারিকুলাম তো আর পরিবর্তন করতে পারি না। তবে প্লেতে  বাজার থেকে পছন্দ অনুযায়ী বই কিনে পড়ানো হয়।’

এই প্রতিষ্ঠানে প্লে থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান করানো হয়। বর্তমানে মোট শিক্ষার্থী রয়েছে ২৬০ জন। শিক্ষার্থীদের কাছে ফি নেওয়া হয় ১৩০০ টাকা। আর প্রতিষ্ঠানে মোট স্টাফ রয়েছে ৫০ জন। এরমধ্যে ২৫ জন শিক্ষক।

শিক্ষার্থীদের বেতনের টাকা দিয়ে প্রতিষ্ঠানের ভাড়াসহ স্টাফদের বেতন হয় কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তোফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা প্রথম দিকেই পড়ে আছি। যেহেতু প্রতিষ্ঠানটি নতুন হয়েছে সেহেতু শিক্ষকসহ অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আমরা অল্প বেতন দিয়ে থাকি। তাই তেমন অসুবিধা হয় না।’

প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান হলেন ডা. মুর্শেদ জামান মিয়া ও সদস্য সচিব হলেন অধ্যক্ষ এম আলাউদ্দিন। এছাড়া পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা হলেন জহুরুল ইসলাম ফারুক, গোলাম কাজেম আলী আহমেদ,শহিদুল ইসলাম ও মুরাদ হোসেন।

এই প্রতিষ্ঠানের কোনও অনুমোদন নেওয়া হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তৌফিকুর রহমানের বলেন, আমরা ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে যেহেতু ইনভাইট পিস লিমিটেড গ্রুপের সঙ্গে ছিলাম। তাই তখন নেওয়া হয়নি। তবে এখন আমরা সিটি করপোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্স নেওয়ার চেষ্টা করছি। আর প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত না হলে অনুমোদনের তেমন প্রয়োজন পড়ে না বলে বোয়ালিয়া থানা শিক্ষা অফিসার সানাউল্লাহও আমাদের বলেছেন।

ইনভাইট পিস লিমিটেড তাদের নাম পরিবর্তনের ব্যাপারে কোনও আপত্তি তুলেনি এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আপত্তি তুললে লিজেন্ড অ্যাকাডেমির পক্ষ থেকে জবাব দেওয়া হবে। গোয়েন্দা শাখার লোকজন নিয়মিত আমাদের প্রতিষ্ঠানে এসে খোঁজখবর নিচ্ছে।

এই প্রতিষ্ঠানে ব্যাপারে রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র ও সিনিয়র সহকারী কমিশনার ইফতে খায়ের আলম বলেন, জামায়াতের কিছু লোকজন পিস স্কুল অ্যান্ড কলেজের সঙ্গে জড়িত। তারাই প্রতিষ্ঠানটি নিয়ন্ত্রণ করে। এখন পিস স্কুল নিয়ে সরকারের বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হওয়ায়

নজর এড়াতে কৌশল করে প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তন করেছে। এরপরও প্রতিষ্ঠানটির ওপর পুলিশের নজর রয়েছে। স্কুলটির অ্যাকাডেমিক কারিকুলাম সম্পর্কে তদন্ত করা হচ্ছে।

/জেবি/ 

আরও পড়তে পারেন : নারায়ণগঞ্জে পান দোকানদার ও পুলিশের মৃত্যুতে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি