তিনি জানান, রাজশাহী জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষ থেকে মান্দা থানায় নাঈমের ছবি পাঠানো হয়। নওগাঁর মান্দা উপজেলার গনেশপুর ইউনিয়নের উত্তর পারইল গ্রামে ছবি দেখে পরিবারের সদস্যরা ছাড়াও প্রতিবেশীরা নাঈমকে শনাক্ত করেন। নাঈম দীর্ঘদিন পলাতক ছিল।
এমদাদুল হক আরও জানান, নাঈমের দুই স্ত্রী। প্রথম স্ত্রী অনেক আগেই তালাক নিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন। আর দ্বিতীয় স্ত্রী রিমাও জেএমবির সঙ্গে জড়িত। রিমা দুই বছরের ছেলে সিয়ামকে নিয়ে বগুড়া কারাগারে আছে। চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল তিনি গ্রেফতার হয়। গত ৩ এপ্রিল শেরপুরের জোয়ানপুর গ্রামে বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণে দুই জেএমবির সদস্য নিহত হওয়ার মামলায় রিমাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এরপর থেকেই সে বগুড়া কারাগারে রয়েছে।
এসআই এমদাদুল হক জানান, নাঈমের বড় ভাই ইউসুফ আলী ও তার ছেলে খায়রুল ইসলামও বগুড়া কারাগারে আছেন। গত বছরের ২১ ডিসেম্বর বগুড়া থানা পুলিশ তাদেরকে বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। ইউসুফ আলী গ্রেফতার হওয়ার পর গত বছরের ২৬ নভেম্বর বগুড়ার শিবগঞ্জে শিয়া মসজিদে বোমা হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়ে সে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।
মান্দা উপজেলার গনেশপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান হানিফ উদ্দিন মণ্ডল বলেন, নাঈমের পরিবারের একজন সদস্য প্রথমে ফোন করে আমাকে জানান, নাইম বাগমারায় ক্রসফায়ারে মারা গেছে। তার লাশ নিয়ে আসার কোনও ব্যবস্থা করা যায় কিনা, তা তিনি জানতে চান। তার মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া যায় বাগমারার বন্দুকযুদ্ধে নিহত ব্যক্তি নাঈম।
তিনি আরও জানান, নাঈমের বড় ভাই জেএমবির শীর্ষ নেতা সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাইয়ের সহযোগী ছিল। ২০০৪ সালের এপ্রিল মাসে রাজশাহীর বাগমারা ও নওগাঁর আত্রাই রানীনগরে বাংলা ভাইয়ের সঙ্গেই ইউসুফ থাকত। তখন থেকেই তারা জেএমবির সঙ্গে জড়িত। ইউসুফ ও তার ছেলে গ্রেফতার হওয়ার পর ইউসুফের আরেক ছেলে মেহেদি হাসান, ইউসুফের ভাই হায়দার আলী, দেলোয়ার হোসেন ও মোয়াজ্জেম হোসেন আত্মগোপন করে। তবে এর অনেক আগে থেকেই ইউসুফের আরেক ভাই নাঈম এলাকা ছাড়া ছিল। মাঝে মধ্যে সে বাড়িতে আসলেও ইউসুফ গ্রেফতার হওয়ার পর সে আর বাড়ি আসেনি।
এদিকে মঙ্গলবার রাত ৮টায় বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ বলেন, এখনও নিহত ব্যক্তির পরিচয় স্পষ্ট হওয়া যায়নি। কারণ তাদের পরিবার থেকে আমাদের কাছে যোগাযোগ করা হয়নি। তবে মান্দা থানায় আমাদের মেসেজ পাঠানো হয়েছে। লাশটি রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফফর হোসেন বলেন, আমরা ছবি দেখে শনাক্ত করে বাগমারা থানায় নাঈমের নাম ঠিকানা পাঠিয়েছি।
উল্লেখ্য, গত রবিবার (৭ আগস্ট) রাতে রাজশাহীর বাগমারায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন আনোয়ার হোসেন ওরফে নাঈম। এসময় ছয়জন পুলিশ সদস্যও আহত হন। ঘটনাস্থল থেকে দুই রাউন্ড গুলিসহ একটি বিদেশি পিস্তল, ১৩টি হাতবোমা, চারটি হাঁসুয়া, একটি চাপাতি, দুইটি ছোরা ও ১০টি জিহাদি বই উদ্ধার করে পুলিশ।
আরও পড়ুন: পৌর কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে চার্জগঠন
/এআর/