স্থানীয়রা জানান, জেলার অন্যান্য স্থানের মতো শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালনে শোক পদযাত্রা, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণের আয়োজন করে। স্থানীয় সংসদ সদস্য শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ হজে যাওয়ায় কাউকে প্রধান অতিথি করা হয়নি। অনুষ্ঠানে উপজেলা চেয়ারম্যান জামায়াত নেতা ৪-৫টি নাশকতা মামলার জামিনে থাকা আসামি আলমগীর হুসাইন অঘোষিত প্রধান অতিথি ছিলেন। বেলা ১০টার দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে শোক পদযাত্রা বের করা হয়। জামায়াত নেতা আলমগীর এতে অংশ নেন। প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পদযাত্রায় অংশ নেওয়া লোকজন উপজেলা পরিষদের আলোচনা সভায় যোগ দেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জামায়াত নেতা আলমগীর হুসাইন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবদুল বারি, পৌর মেয়র আওয়ামী লীগ নেতা তৌহিদুর রহমান মানিক প্রমুখ। সভায় জামায়াত নেতা বঙ্গবন্ধুর গুণগান করে বক্তব্য রাখেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, আওয়ামী লীগ নেতারা মুখে স্বাধীনতার পক্ষের কথা বললেও মূলত তারাই স্বাধীনতা বিরোধীদের বাঁচিয়ে রেখেছেন। তারা জামায়াত ও স্বাধীনতা বিরোধীদের বিপক্ষে বক্তব্য দিলেও অনুষ্ঠানে তাদেরও পাশে রাখেন। ইচ্ছা করলে তারা জামায়াত নেতাকে এ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ নাও জানাতে পারতেন।
শিবগঞ্জ পৌর মেয়র আওয়ামী লীগ নেতা তৌহিদুর রহমান মানিক এ প্রসঙ্গে বলেন, উপজেলা প্রশাসনের কর্মসূচিতে জামায়াত নেতা উপজেলা চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন। আওয়ামী লীগের কোনও কর্মসূচিতে তিনি যাননি।
উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক নেতা জানান,সরকারি অনুষ্ঠানে উপজেলা চেয়ারম্যানের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক ছিল বলেই তিনি ছিলেন। এতে দোষের কিছু নেই।
জাতীয় শোক দিবস ও বঙ্গবন্ধুর শাহাদাত বার্ষিকীর কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকা প্রসঙ্গে ওই জামায়াত নেতা স্থানীয়দের বলেছেন, অনুষ্ঠানে থাকলে দোষের কিছু নেই। শুধু ‘জয়বাংলা শ্লোগান’ না দিলেই হলো।
আরও পড়ুন: সেখানে জাতীয় শোক দিবস এবারই প্রথম
/এআর/এমএসএম/