বগুড়ায় তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) ১৯৩টি সিলিন্ডার বিস্ফোরণের আগেই এমন ঘটনার আশঙ্কা করেছিলেন রাজশাহী বিভাগীয় এলপি গ্যাস পরিবেশক সমিতির নেতারা। বিপিসির তিনটি কোম্পানির এলপিজি সিলিন্ডার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আপত্তি জানিয়ে আসছিলেন তারা।
ঘটনার পর পদ্মা অয়েল কোম্পানির এমডি আবুল খায়ের ও অপারেশন ম্যানেজার ইকবাল আহমেদ ডিপো পরিদর্শন করেছেন। যদিও এর আগে বিস্ফোরণের পর তাৎক্ষণিকভাবে ১৯৮টি সিলিন্ডার বিস্ফোরণের কথা জানানো হয়েছিলো। পরে রবিবার পদ্মা অয়েল কোম্পানির এলপি গ্যাস ডিপোর অফিস সহকারি আশরাফুল ইসলাম জনি জানান, প্রথমে ১৯৮টি বলা হলেও পরে হিসেব করে দেখা গেছে ১৯৩টি সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়েছে।
রাজশাহী বিভাগীয় এলপি গ্যাস পরিবেশক সমিতির আহ্বায়ক আহসানুর রশিদ ডাবলু জানান, বিপিসির বিপণন প্রতিষ্ঠান পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল কোম্পানি ৭৫০ জন ডিলারের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলে এলপি গ্যাস বাজারজাত করে আসছে। এসব সিলিন্ডারের অধিকাংশই মেয়াদউত্তীর্ণ হওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে গত একবছর ধরে বিপিসিসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিত ও মৌখিকভাবে অবহিত করা হয়। গত মাসের শেষে ব্যবস্থা নিতে বিস্ফোরক অধিদফতরেও আবেদন করা হয়েছিলো। বারবার বলার পরও কোনও কাজ হয়নি। অবশেষে দুর্ঘটনায় ঘটলো। কর্তৃপক্ষ পরিবেশক সমিতির কথা শুনলে এ দুর্ঘটনা ঘটত না বলেও জানান তিনি।
ডিপো ইনচার্জ সাখাওয়াত হোসেন জানান, ১৮৫টি সিলিন্ডার ভালো পাওয়া গেছে। গ্যাসসহ ১৯৩টি সিলিন্ডার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ৬ লাখ ৭১ হাজার টাকা ২৫৪ টাকার ক্ষতি হয়েছে। ত্রুটিপূর্ণ সিলিন্ডারের কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলেও স্বীকার করেন তিনি।
এর আগে, গত শনিবার সকালে বগুড়ার শাজাহানপুরের লিচুতলা এলাকায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের পদ্মা অয়েল কোম্পানির এলপি গ্যাস ডিপোতে ৩৭৮টি সিলিন্ডার ট্রাক থেকে আনলোড করা হচ্ছিল। একটি সিলিন্ডার মাটিতে ফেলে দেবার পর সেটির মুখ দিয়ে গ্যাস নির্গত হতে থাকে। এসময় মুহূর্তের মধ্যে পুরো ট্রাকে আগুন ধরে সিলিন্ডারগুলোতে আগুন ধরে যায়। আগুন মিলন নামে এক শ্রমিক আহত হন।
- বারবার কেন বসুন্ধরায় আগুন লাগে: আনিসুল হক
- ফরিদপুরে টর্নেডোর আঘাতে জুট মিল ধসে ৪ কর্মীর মৃত্যু, আহত শতাধিক
/এমও/