শনিবার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় নীলফামারী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত-১ এর বিচারক আকরাম হোসেনের কাছে ১৬৪ ধারায় শিশুটির মা মতিজন বেগম জবানবন্দি দিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করেন।
এ ছাড়া শিশুটির মরদেহ গর্তে ফেলে আসতে তার স্বামী সহযোগিতা করেছেন বলে জানিয়েছেন মতিজন।
এরপর আদালত তাকে জেলা কারাগারে পাঠিয়ে দিয়েছেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিমলা থানা এসআই সাহাবুদ্দিন রবিবার বিকেলে এ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মতিজন বেগমের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী শনিবার রাতেই হত্যার স্বীকার শিশুটির বাবা মামলার বাদী ইনসান আলীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আদালতে ১৬৪ ধারায় তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করানো হবে।
পুলিশ জানায়, গত ২৪ আগস্ট বুধবার মধ্যরাতে নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ বালাপাড়া গ্রামের গুচ্ছগ্রাম সংলগ্ন একটি বাঁশঝাড় থেকে গলাকাটা চার বছরের শিশু সুখমনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় বাবা ইনসান আলী বাদী হয়ে গ্রামের চারজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। কিন্তু শিশুহত্যার আলামত বাদীর বাড়িতে গলাকাটার ব্যবহৃত কাস্তে ও মরদেহ বহনের বস্তা পাওয়া যায়। ফলে বাদী ইনসান আলীর স্ত্রী মতিজনকে শুক্রবার রাতে আটক করা হয়। এরপর শনিবার রাতেই শিশুটির বাবা ও বাদী ইনসান আলীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
উল্লেখ্য, ঘটনার দিন আনুমানিক সকাল ১১টার দিকে ছেলে ইয়াসিন ও সুখমনি মারামারি করছিল। এ সময় তাদের থামাতে গিয়ে মা সুখমনির গলা চেপে ধরলে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়।
এদিকে, মতিজন ও স্বামী ইনছান আলী সুকৌশলে সুখমনির মরদেহ গোয়াল ঘরে রেখে মেয়ে নিখোঁজ বলে চালিয়ে দেন। তারপর সন্ধ্যার দিকে মরদেহের গলা কাস্তে দিয়ে কেটে, মানুষ জনের চোখে ফাঁকি দিয়ে রাত ৮টার দিকে বাড়ি থেকে ২০০ গজ দূরে আমিনুরের বাশঝাঁড়ের গর্তে ফেলে দিয়ে আসেন।
এরপর মরদেহ বহন করে নিয়ে যাওয়ার বস্তা ও কাস্তে পরিস্কার করে রাখেন তারা। জানা যায়, ইনসান আলীর ৭টি মেয়ে ও একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। এদের মধ্যে ৪টি মেয়ের বিয়ে হয়েছে। আর আয়েশা নামে একটি মেয়েকে দত্তক দিয়েছেন তারা।
বাড়িতে ইনসান আলী (৬০), স্ত্রী মতিজন (৫০), ছয় বছরের মেয়ে নাসিমা, চার বছরের মেয়ে সুখমনি ও দুই বছরের ছেলে ইয়াছিন থাকতো।
/এবি/