পাবনায় চলছে দেশীয় পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজাকরণ

 

Pabna Cow Fattened Photo (2) 04-09-2016কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে পাবনায় দেশীয় পদ্ধতিতে মোটাতাজা করা হচ্ছে গরু। এবার পাবনায় ব্যক্তিগত ও বেসরকারি উদ্যোগে প্রায় দেড় লাখ ষাঁড় গরু মোটাতাজা করা হয়েছে। যা দিয়ে জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে কোরবানির পশুর চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে। এদিকে, কোরবানির ঈদকে ঘিরে এখন পর্যন্ত ভারতীয় গরু আমদানি বন্ধ থাকায় এবার লাভের মুখ দেখার আশায় আছেন খামারিরা। জেলা প্রাণি সম্পদ বিভাগের হিসাব মতে, এ বছর পাবনা জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ১ লাখ ৩২ হাজার। ইতিমধ্যে উৎপাদন আছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৯২০টি।

জানা গেছে, কোরবানির ঈদকে টার্গেট করে লাভের আশায় ষাঁড় গরুকে মোটাতাজা করেন পাবনার বহু ছোট-বড় খামারিরা। নানা কারণে বিগত বছরগুলোতে খামারিরা লোকশানে পরলেও এ বছর তারা লাভের আশা করছেন। বিগত বছরগুলোতে লোকশানের কারণ হিসেবে কয়েকজন খামারি জানান, গত কয়েক বছর অবাধে ভারতীয় গরু আসা ও কতিপয় অসাধু খামারি অধিক লাভের আশায় স্টেরয়েড জাতীয় নানা ধরনের ক্ষতিকারক ট্যাবলেট ও ইনজেকশন দিয়ে গরু মোটাতাজা করে বিক্রি করেছে। এ ধরনের গরুর মাংস খেলে মানুষ লিভার, কিডনি, ক্যান্সার, হৃদযন্ত্রসহ মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হতে পারে। বিগত বছরগুলোতে এমন খবর ইলেকট্রোনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রচার হওয়ায় এর প্রভাব পড়ে পশুর হাটগুলোতে। এতে হাইব্রিড জাতের বড় বড় গরু নিয়ে আসা ব্যবসায়ীদের ব্যাপক লোকসানে পরতে হয়।

Pabna Cow Fattened Photo (1) 04-09-2016পাবনার আতাইকুলা হাটের গরু ব্যবসায়ী আসলাম ব্যাপারি জানান, গত বছর কোরবানির ঈদের আগে তিনি হাইব্রিড ও দেশীয় প্রক্রিয়ায় মোটাতাজা করা দুশটি গরু ঢাকার গাবতলী পশুর হাটে নিয়ে গিয়েছিলেন। তার মধ্যে মাত্র ৮০টি গরু বিক্রি হয়। একই অবস্থা হয়েছিল এ অঞ্চলের শত শত গরু ব্যবসায়ী ও খামারির। তবে এবার অবস্থা ভাল, হাইব্রিড বা স্টেরয়েড জাতীয় নানা ধরনের ক্ষতিকারক ট্যাবলেট ও ইনজেকশন দিয়ে মোটাতাজা গরু পাবনার হাট-বাজারে নাই।

এ ব্যাপারে আটঘরিয়ার গো-খামারি আব্দুস ছাত্তার জানান, খামারিরা গতবার লোকসানের পর সচেতন হয়েছে। আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে বহু আগে থেকেই দেশীয় প্রক্রিয়ায় খড়, ভূষি, লালি গুড়, খুদের ভাত, ঘাসসহ বিভিন্ন দেশি খাবার দিয়ে ষাঁড় গরু মোটাতাজা করেছে। পাবনার খামারি ও ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, দেশে কোরবানির পশুর চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখবে এলাকার উৎপাদিত গরু।

পাবনা জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুল গফুর দাবি করেন, সময় মত খামারিদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিয়ে বিজ্ঞান সম্মত পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজা করতে উদ্বুদ্ধ করেছে জেলা প্রাণি সম্পদ বিভাগ যার সুফলও পাওয়া যাচ্ছে।

আরও পড়ুন:
রাজশাহীতে জমে উঠেছে পশুর হাট, তবে দাম বেশি

 

/বিটি/