পবিত্র ঈদ-উল-আজহাকে সামনে রেখে জেলার পশু বিক্রির হাটগুলো ক্রমে জমজমাট হয়ে উঠছে। পশুর সংখ্যা প্রায় পৌনে ছয় লাখ। কেউ বলছে পশুর মূল্য চড়া আবার কেউ বলছে স্বাভাবিক। জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তার দফতর বলছে, বাসাবাড়ি ও খামারে পাঁচ লাখেরও বেশি কোরবানিযোগ্য পশু আছে। তাই এবার দেশি পশুর সংকট হবে না বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বগুড়া জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার অফিস সূত্র জানান, জেলার ১২ উপজেলায় প্রায় সাত লাখ পরিবারে ৩৫ লাখ মানুষ বসবাস করেন। এ হিসাবে এবার প্রায় সাড়ে তিন লাখ পশু কোরবানি হওয়ার কথা। ১৮ হাজার ৯৯ খামার ও বাসাবাড়িতে কোরবানিযোগ্য ৫ লাখ ৭৪ হাজার ৫৬৩টি গবাদি পশু রয়েছে। এর মধ্যে ১ লাখ ৬৯ হাজার ৪৩৯টি গরু, ৬৮০টি মহিষ, ৩ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৪টি ছাগল ও ৩১ হাজার ১২০টি ভেড়া।
এদিকে এসব পশু বিক্রির জন্য জেলার বিভিন্ন হাটে তোলা হচ্ছে। হাতে সময় থাকায় অধিকাংশ ক্রেতা দরদাম করে ফিরে যাচ্ছেন। অনেকে সুস্থ এবং ইনজেকশনমুক্ত গরু কিনতে বিভিন্ন গ্রামে গৃহস্থদের বাড়িতে যাচ্ছেন। দাম ঠিক হলে কেউ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। আবার কেউ ঈদের আগের দিন পর্যন্ত লালন-পালনের খরচ দিয়ে গৃহস্থের বাড়িতে রেখে আসছেন।
ব্যাপারিরাও অন্যত্র থেকে এ জেলায় কোরবানির পশু আনছেন আবার অন্য এলাকায় নিয়ে যাচ্ছেন। বৃহস্পতিবার সকালে শাজাহানপুর উপজেলার শ্মশানকান্দি দক্ষিণপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, অনেক বাড়িতে কোরবানির উপযোগী গরু রয়েছে। গৃহকর্তারা বাড়িতে না থাকলেও গৃহবধুরা বিক্রি করছেন। এ গ্রামে ৩৫ হাজার টাকা থেকে ৬৫ হাজার টাকা মূল্যের গরু রয়েছে। এ সময় কয়েকজন ক্রেতাকে দাম করতে দেখা গেছে।
বগুড়া জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শফিউজ্জামান জানান, এবার খামার ও বাসাবাড়িতে কোরবানিযোগ্য ৫ লাখেরও বেশি গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া রয়েছে। অতিরিক্ত প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সোহেল রানা বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, গত বছর জেলায় ৪ লাখ ৪৬ হাজার ৫০০ গবাদি পশু জবাই হয়েছিল। পর্যাপ্ত মজুদ থাকায় এবার ঈদে পশুর সংকট হবে না। দেশি পশু দিয়েই কোরবানি সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
/এইচকে/আপ-এআর/
পড়ুন: বগুড়ায় স্কুলছাত্র সিয়াম হত্যা মামলায় ১ জনের মৃত্যুদণ্ড