বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজশাহী মহানগর পুলিশের বোয়ালিয়া জোনের সহকারী কমিশনার গোলাম সাকলায়েন।
বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘রাতেই আমাকে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট থেকে তার (জঙ্গি শমসের উদ্দিন) ঠিকানা জানতে চাওয়া হয়। পরে বোয়ালিয়া থানা থেকে একটি দল তার বাড়ির ঠিকানার সন্ধানে বের হয়। কিন্তু তারা শমসেরের ঠিকানা খুঁজে না পাওয়ায় আমি ব্যক্তিগতভাবে দুইবার এলাকায় গিয়ে স্থানীয় লোকজনকে জিজ্ঞাসা করেছি। কিন্তু কেউ এই নামে কাউকে চেনেনি।’
সিটিটিসি সূত্রে পাওয়া জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) অনুযায়ী করিমের আসল নাম মো. শমসের উদ্দিন। পিতার নাম মোসলেহ উদ্দিন। এনআইডিতে তার ঠিকানার জায়গায় লেখা, ৬৩০ নম্বর সিটি করপোরেশন, বোয়ালিয়া, রাজশাহী। এনআইডি নম্বর- ৮১৯২২২৬৩৩৯১৫৩।
কিন্তু রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ২৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর নূর মোহাম্মদ মোল্লা বলেন, ‘তার এনআইডি নম্বরের শেষ ছয় সংখ্যার সঙ্গে আমার কাছে থাকা ভোটার নম্বরের (৮১১০২০৩৩৯১৫৩) মিল রয়েছে। তবে সেখান তার নাম হচ্ছে মো.জামসেদ হোসেন। পিতার নাম মরহুম মোছলেম উদ্দিন, মাতার নাম মোসা রেনুয়ারা বেগম, পেশা-ছাত্র, জন্ম তারিখ ১৯৮৩ সালের ১০ নভেম্বর। ঠিকানা- মেহেরচন্ডী (পূর্বপাড়া) বোয়ালিয়া, রাজশাহী।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার ওয়ার্ডে ৫২০ পর্যন্ত হোল্ডিং রয়েছে। তবে জামসেদ হোসেনের ভোটার নম্বর অনুযায়ী তার হোল্ডিং মেহেরচন্ডী পূর্বপাড়া খন্দকার মসজিদের আশাপাশে ১৩৪ বা ১৩৫ হতে পারে।’
১৩৫ নম্বর হোল্ডিং বাড়ির পাশে এক নারী দোকানি বলেন, ‘আমাদের আশেপাশে এই নামে কেউ নেই। তবে সকাল থেকে শমসের ও জামসেদ নামে অনেকে আমাদের কাছে খোঁজ খবর নিয়ে গেছেন।’
নগরীর মেহেরচন্ডী পূর্বপাড়া এলাকার আরেক মুদি দোকানি মোহাম্মদ টুলু (৫৫) বলেন, ‘জন্ম থেকেই এলাকায় বড় হয়েছি। কিন্তু এই নামের সঙ্গে বাবার নামের কোনও মিল খুঁজে পাচ্ছি না। এলাকায় দু’জন জামসেদ আছে। এরা হলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভেতরে চা বিক্রেতা ও অন্যজন পূর্বপাড়া রেল স্টেশন এলাকার টেইলার্সের দর্জি। তারা দু’জনে জীবিত আছেন।’
জামসেদ হোসেনের ব্যাপারে রাজশাহী মহানগর পুলিশের বোয়ালিয়া জোনের সহকারী কমিশনার গোলাম সাকলায়েন বলেন, ‘এই নামের সঙ্গে বাবার নামের মিল না থাকায় মেহেরচন্ডী এলাকায় তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
২৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর নূর মোহাম্মদ মোল্লাসহ এলাকার বেশ কয়েকজন বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশ ঘেষে নগরীর বোয়ালিয়া থানার মেহেরচন্ডী এলাকা। তাই এখানে ছাত্রাবাস গড়ে ওঠেছে। এমনও হতে পারে কোনও ছাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় জাতীয় পরিচয়পত্রে এই এলাকার নাম ব্যবহার করে তৈরি করে থাকতে পারে। এরপর এলাকা ছেড়ে চলে গেছে। কিন্তু ভোটার তালিকায় তার নাম থেকে গেছে। এমন ঘটনা এর আগেও অনেক হয়েছে।’
জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভোটার তালিকার নম্বরের ব্যাপারে রাজশাহীর সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার সৈয়দ আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘ভোটার ও এনআইডি নম্বরের মধ্যে পার্থক্য থাকে। সংখ্যা কমবেশি হয়। তবে ভোটার ও এনআইডি নম্বরের ব্যক্তি একজন হন।’
/এআর/এমএসএম/