নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস বাড়িতে: প্রাণ গেলো ঘুমন্ত দম্পতির

 

 

বাসচাপারাজশাহীতে চালক ঘুমিয়ে পড়ায় যাত্রীবাহী একটি বাস বাড়িতে ঢুকে পড়েছে। এ ঘটনায় এক ঘুমন্ত দম্পতির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১০ জন। বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে ২টার দিকে রাজশাহী মহানগরীর বহরমপুর রেলক্রসিং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমান উল্লাহ এ তথ্য জানান।

রাজপাড়া থানার ওসি বলেন,  রাত পৌনে ২টার দিকে কেয়া পরিবহনের একটি বাস (ঢাকা মেট্রো-ব ১১-৭২৮৪)  চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকা যাচ্ছিল। এ সময় চালক ঘুমিয়ে পড়ায় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বশিরের বাড়িতে ঢুকে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই বহরমপুর রেলক্রসিং এলাকার বাশির হোসেন (৪০) ও তার স্ত্রী রেশমা বেগম (৩৫) মারা যান। ঘটনার সময় তারা তাদের ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন।  তবে অক্ষত রয়েছে তাদের তিন শিশু সন্তান। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা বাসের নিচ থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করেন। বশির রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তার স্ত্রীও গৃহকর্মীর কাজ করতেন।

ওসি আরও জানান, বাসটির কিছু অংশ বশিরের পাশের বাড়িতেও ঢুকে পড়েছে। এতে দিপু মিয়া (৩৫) ও চম্পা বেগম (৩০) নামে এক দম্পতি গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আর দুর্ঘটনার পরই বাসের চালক, সুপারভাইজার ও হেলপার পালিয়ে গেছে।

রামেক হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক আরিফুল ইসলাম জানান, দিপু মিয়া ও চম্পা বেগম ছাড়াও আরও ছয় বাসযাত্রীকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তারা হলেন, মামুন (৩০), ফিরোজ (৪০), মানিক (৩১), এমদাদুল (৩৪), উত্তম (৫০) ও শরীফ (২৩)। এছাড়া মোবারক (৫৫) ও টিপু (৩৪) নামে আরও দুই বাসযাত্রী প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। আহত বাস যাত্রীদের বেশিরভাগেরই বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জে।

আবুল কালাম আজাদ (৫৩) নামে ওই বাসের এক যাত্রী জানান, দুর্ঘটনার বেশ কিছুক্ষণ আগ থেকেই বাসের চালক তন্দ্রাচ্ছন্ন ছিলেন। কয়েকবার তাকে সতর্কও করেন যাত্রীরা। পরে বহরমপুর রেলক্রসিংয়ের বাঁকে বাঁক না নিয়ে চালক সরাসরি বাড়ির ভেতরে গাড়ি ঢুকিয়ে দেয়। এতে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।

রাজপাড়া থানার ওসি আমান উল্লাহ জানান, বাস চালককে গ্রেফতার করতে পুলিশ চেষ্টা করছে। দম্পতির মৃত্যুর ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করা হবে। আর দুর্ঘটনা কবলিত বাসটিকে উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হচ্ছে।

/এমএনএইচ/