সিরাজগঞ্জে নদী রক্ষা বাঁধে ধস, ৫০ মিটার যমুনার গর্ভে

Sirajganj WDB embankment breched Photo-25-09-16সিরাজগঞ্জে পাউবোর নদী তীর রক্ষা বাঁধে শুষ্ক মৌসুমে ধস দেখা দিয়েছে। যমুনার পানি এখন বিপদসীমার অনেক নিচে রয়েছে। পানি কমতে থাকলেও ঘূর্ণাবর্ত্য বেড়ে যাওয়ায় সদর উপজেলার পাঁচঠাকুড়ি এলাকায় যমুনার পশ্চিম তীরে শনিবার রাত থেকে আকস্মিক ধস দেখা দিয়েছে।

যমুনার ডান তীরে পাঁচঠাকুড়ি এলাকায় শিমলা স্পারের পশ্চিমে পাউবোর ১৮ নং প্যাকেজের নদী তীর সংরক্ষণ কাজের অংশ ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে বাঁধের প্রায় ৫০ মিটার অংশ নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। রবিবার দুপুর পর্যন্ত ওই অংশে ৮/১০টি বসতভিটাসহ ঘরবাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। আর এ কারণে এ অঞ্চলের নদী পাড়ের অসহায় মানুষজন আতঙ্কে রয়েছে।

এদিকে, ৫০ মিটার অংশ পাঁচঠাকুড়ি এলাকায় যমুনা গর্ভে  বিলীন হলেও রবিবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত পাউবোর কাউকে দেখা যায়নি। ভাঙন শুরু হলেও ভাঙন কবলিত স্থানে পাউবোর প্রকৌশলীরা সময়মত না যাওয়ায় স্থানীয় লোকজন হতাশ হয়ে পড়েছেন।

অন্যদিকে, পাউবোর প্রায় সাড়ে তিনশ কোটি টাকার ২৪টি প্যাকেজের সংস্কার কাজের প্রতিটি ৫’শ মিটার দৈর্ঘ্যর ছয়টি অংশ সদর উপজেলার বাহুকা, শিমলা ও পাচঁঠাকুড়ি অংশে পড়েছে। ২০১৪ সালে নদী তীর রক্ষা প্রকল্পের এ ১৮ নং প্যাকেজের ৫’শ মিটার সংস্কার কাজ শেষ হলেও পরের বছরেই এটির প্রায় দুশ মিটার অংশ যমুনা গর্ভে বিলীন হয়। কাজের শুরু থেকে এসব এলাকায় ঠিকাদারদের ধীরগতির কারণে স্থানীয়দের মধ্যে শুরু থেকেই চরম অসন্তোষ ও হতাশা ছিল। তার ওপর শনিবার মধ্য রাত থেকে ফের ভাঙনের কারণে স্থানীয়দের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে।

এ বিষয়ে পাউবোর সেকশন অফিসার (সদর) রনজিত কুমার সাহা রবিবার বিকালে বলেন, ‘২০১৪ সালে ১৮ নং প্যাকেজের নদী তীর সংরক্ষণ কাজ সময়মত শেষ হয়। পরের বছর ভাঙন দেখা দেয়। চলতি বছর বন্যায় প্যাকেজটির কোনও অংশ ভাঙেনি। কিন্তু পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে যমুনার ঘূর্ণাবর্তের কারণে পাচঁঠাকুড়ি এলাকায় আকস্মিক ভাঙন দেখা দিয়েছে। আমরা সেখানে যাচ্ছি।’

নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ হাসান ইমাম বলেন, ‘সদর ও কাজিপুর উপজেলার যমুনার ডান তীরে সাড়ে ৯’শ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন করে ডান তীর সংরক্ষণ প্রকল্প খুব শিগগিরই হাতে নেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পটি আপাতত পরিকল্পনা দফতরে রয়েছে। প্রকল্পটি একনেকে পাস হবার পর দ্রুত বাস্তবায়িত হলে সদর থেকে কাজিপুর উপজেলার ৩৪ কি.মি. অংশে ভাঙন নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে।’

/বিটি/