বগুড়ায় ডাকাত-পুলিশ গুলি বিনিময়, ৩ ডাকাত গ্রেফতার

বগুড়ায় ডাকাতদের কাছ থেকে উদ্ধার করা অস্ত্রবগুড়ার কাহালু উপজেলার দূর্গাপুর এলাকায় বৃহস্পতিবার গভীর রাতে পুলিশের সঙ্গে ডাকাতদলের গুলি বিনিময় হয়েছে। এ সময় পায়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তিন ডাকাত পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে। এদের শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের গ্রেফতার করতে গিয়ে দুই কনস্টেবল আহত হয়েছেন।

ঘটনাস্থলে বেশ কয়েকটি ধারালো অস্ত্র ও ডাকাতির সরঞ্জাম পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় কাহালু থানায় অস্ত্র আইনে ও ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে মামলা হয়েছে।

গ্রেফতার ডাকাতরা হলেন- কাহালুর আখরাইল গ্রামের মৃত ওসমান গনির ছেলে গোলাম মোস্তফা মোস্তা (৩৫), গাবতলীর কদমতলী গ্রামের আবদুর রহিম সরকারের ছেলে ঝন্টু ওরফে মিঠু (৩৭) এবং শাজাহানপুরের চকদুলাহার বলিপাড়ার ইসমাইল হোসেনের ছেলে মোজাফফর ওরফে বিপুল (৩০)। এদের সবার বিরুদ্ধে ডাকাতি করতে গিয়ে হত্যা ও বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারের তামার তার চুরিসহ বেশ কয়েকটি করে মামলা রয়েছে।

বগুড়ার সিনিয়র এএসপি (মিডিয়া) গাজিউর রহমান সাগর জানান, গত ২৬ আগস্ট কাহালুর পোড়াপাড়ায় একটি ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপে নৈশ প্রহরি খুন ও ডাকাতি হয়। ৯ সেপ্টেম্বর একই উপজেলার পাবহারা গ্রামে একটি গভীর নলকূপে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারের তামার তার চুরি করতে গিয়ে নৈশ প্রহরিকে হত্যা করা হয়। এ দুটি ঘটনায় জড়িত থাকায় বুধবার রাতে বিভিন্ন স্থান থেকে সেলিম, আসির উদ্দিন ফকির, বাবুল প্রামানিক, মাসাদুল হক জিবু, এসএ মোরশেদ তুলিপ ও রেদওয়ানুল মোরশেদ রাহাদ গ্রেফতার হয়। বৃহস্পতিবার বিকালে আদালতে সেলিম, বাবুল ও আসির স্বীকারোক্তি দেয়। এরা ডাকাত মোস্তা, মিঠু ও বিপুলের নাম প্রকাশ করে।

পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটার দিকে কাহালু উপজেলার দূর্গাপুরের একটি ফাঁকা মাঠে কয়েকজন সশস্ত্র দুর্বৃত্ত ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। গোপনে খবর পেয়ে কাহালু থানা পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা গুলিবর্ষণ করে পালাতে থাকে। পুলিশ আত্মরক্ষায় পাল্টা গুলি করলে ডাকাতরা পালিয়ে যায়। পরে আশপাশে খোঁজ করে পায়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ডাকাত মোস্তা, মিঠু ও বিপুলকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের ধরতে গিয়ে কনস্টেবল আহসানুল করিম ও মোমিনুল ইসলাম আহত হয়েছেন।

গুলিবিদ্ধ ডাকাতদের শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুই পুলিশ প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। ঘটনাস্থলে কয়েকটি ধারালো অস্ত্র, গ্রিল ও তালা কাটার বড় প্লায়ার্স ও ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম পাওয়া গেছে।

পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, গ্রেফতার তিনজনই আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্য। এরা বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, জয়পুরহাট, নওগাঁসহ বিভিন্ন জেলায় বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারের তামার তার চুরি, ডাকাতি ও এ কাজে বাধা পেয়ে মানুষ হত্যা করে থাকে। ডাকাত মোস্তার বিরুদ্ধে বগুড়া সদর, গাবতলী ও নাটোরের সিংড়া থানায় ডাকাতি এবং চুরির অর্ধডজন মামলা রয়েছে। একই অবস্থা মিঠু ও বিপুলের। এরা সম্প্রতি বগুড়ার কাহালুতে একটি ওয়ার্কশপে ডাকাতি ও খুন এবং একটি গভীর নলকূপে ট্রান্সফরমারের তার চুরি ও হত্যার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ব্যাপারে কাহালু থানায় অস্ত্র ও ডাকাতির চেষ্টা আইনে মামলা হয়েছে।

এর আগে গত ২২ সেপ্টেম্বর সদর থানা পুলিশ শহরের কাটনারপাড়া এলাকায় গুলিবিনিময়ের পর পায়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তপন ও লিটন নামে দুই পেশাদার ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করে। একই স্থানে গত ১৪ সেপ্টেম্বর ভোরে এদের ছুরিকাঘাতে আবদুল জলিল নামে এক রিকশা চালক খুন হন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিনতাইকারী লিটন মারা যায়।

আরও পড়ুন- 


মানুষ তো মানুষেরই জন্য

/এফএস/