ছাত্রলীগ নেতার হুমকি: রাবিতে পুলিশের পাহারায় পরীক্ষা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রত্ব বাতিল হওয়ার এক ছাত্রলীগ নেতার হুমকির ঘটনায় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য বিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা পুলিশি পাহারায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত এ পরীক্ষা চলে। এসময় বিভাগের বারান্দায় ও ভবনের সামনে পুলিশের টহল দেখা গেছে।

এর আগে সোমবার পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ না দেওয়ায় ছাত্রলীগ নেতা শরিফুল ইসলাম সাদ্দাম বিভাগের সব পরীক্ষা বন্ধের হুমকি দেন।

ওই বিভাগের সভাপতি ড.পার্থ বিপ্লব রায় বলেন, ‘ছাত্রত্ব বাতিল হওয়া এক শিক্ষার্থী সোমবার বিভাগে এসে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার জন্য চাপ দেয়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী তার ছাত্রত্ব নেই জানিয়ে দেওয়া হয়। এতে ওই শিক্ষার্থী পরীক্ষা বন্ধের হুমকি দেন। এ কারণে পরীক্ষা যাতে সুষ্ঠুভাবে হতে পারে  সেজন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানানো হয়। তাই প্রশাসন নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে।’ 

মতিহার থানার ওসি (তদন্ত) অশোক চৌহান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ছাত্রলীগ নেতা শরিফুল ইসলাম সাদ্দাম পরীক্ষা বন্ধের হুমকি দিয়েছিল। তাই পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে।’

সংশ্লিষ্ট বিভাগ সূত্র জানায়, শরিফুল ইসলাম সাদ্দাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষে তথ্য বিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগে প্রথম বর্ষে ভর্তি হন। প্রথম বর্ষে উত্তীর্ণ হয়ে ২০১২ সালে দ্বিতীয় বর্ষে ভর্তি হন তিনি। পরবর্তীতে পরপর দুই বছর ক্লাসে অনুপস্থিত থাকায় পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি সাদ্দাম। এরপর ২০১৪ সালে দ্বিতীয় বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তৃতীয় বর্ষে ভর্তি হন। কিন্তু ২০১৫ সালে তৃতীয় বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নিয়ে দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হন। একই সঙ্গে নূন্যতম সিজিপিএ অর্জন করতে না পারায় চতুর্থ বর্ষে ভর্তির অযোগ্য বিবেচিত হন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী ছয় বছরের মধ্যে চার বছর মেয়াদী স্মাতক (সম্মান) কোর্স শেষ করতে হবে। সে হিসেবে চলতি বছর চতুর্থ বর্ষের ফরম পূরণ করতে গেলে চতুর্থ বর্ষে ভর্তির অযোগ্য হওয়ায় তাকে ছাত্রত্ব বাতিল হওয়ার বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়।

কিন্তু শরিফুল পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দাবি করে বিভাগে শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলতে যান। কিন্তু সে সুযোগ দিতে অস্বীকৃতি জানালে শরিফুল ২০১৫ সালের তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষায় অকৃতকার্য কোর্স দু’টির খাতা পুর্নমূল্যায়ণের দাবি জানান। তবে চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর সেই সুযোগ নেই বলে জানিয়ে দেন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. পার্থ বিপ্লব রায়। এতে ক্ষিপ্ত হন সাদ্দাম।

প্রত্যক্ষদর্শী ও বিভাগ সূত্র জানায়, সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাশেদুল ইসলাম রাঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক খালিদ হাসান বিপ্লবকে নিয়ে বিভাগে যান। সেখানে ছাত্রলীগ নেতারা সাদ্দামকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার জন্য বিভাগের সভাপতিকে চাপ দেন। এসময় বিভাগের সভাপতি সে সুযোগ দিতে অস্বীকৃতি জানান। এতে শরিফুল ক্ষিপ্ত হয়ে বিভাগের সব পরীক্ষা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন।

তবে পরীক্ষা বন্ধ করার হুমকির বিষয়টি অস্বীকার করেন ছাত্রলীগ নেতা শরিফুল ইসলাম সাদ্দাম। তিনি দাবি করেন, ‘২০১৫ সালের তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষা দেওয়ার সময় বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাহবুবুল ইসলাম ৩০৩ ও ৩০৪ কোর্সের খাতা কেড়ে নেন। ওই দুই কোর্সে আমি ফেল করি। মাহবুবুল স্যার জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। আমি ছাত্রলীগ করায় ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এই কাজ করেন তিনি। ফলে আমার সিজিপিএ কম হওয়ায় চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছি না।’

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাশেদুল ইসলাম রাঞ্জু বলেন, 'সাদ্দাম জামায়াত শিবিরের সদস্যদের নির্যাতনের কারণে পরীক্ষা দিতে পারেনি। তাই তার বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোন থেকে দেখার অনুরোধ করতে আমরা বিভাগীয় অফিসে গিয়েছিলাম। কিন্তু বিভাগ থেকে দাবি না মানায় আমরা চলে আসি।'

আরও পড়ুন- 


নায়ক হতে এসে 'পাইরেসি সম্রাট'

/এমডিপি/এফএস/