মহাসড়কে দূরপাল্লার বাসে বাধা না দেওয়ার নির্দেশ সিরাজগঞ্জ প্রশাসনের

সিরাজগঞ্জউত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকাগামী দূরপাল্লার বাস চলাচলে কোনও প্রতিবন্ধকতা তৈরি না করতে পরিবহন নেতাদের সতর্ক করে দিয়েছেন সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। বুধবার বিকালে পরিবহন নেতাদের সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি বৈঠকে এই হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

সিরাজগঞ্জের মহাসড়কে উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকাগামী দূরপাল্লার বাস চলাচলে প্রতিবন্ধকতা বন্ধ ও দ্বন্দ্ব নিরসনে পরিবহন নেতাদের সঙ্গে বুধবার বিকেলে জেলা প্রশাসনের জরুরি বৈঠক হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় ও রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের নির্দেশে জেলা প্রশাসক কামরুন নাহার সিদ্দীকা নিজেই তার সন্মেলন কক্ষে এ বৈঠকের আয়োজন করেন। পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন আহম্মেদ, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শামিম আলম, ট্রাফিক পরিদর্শক সৈয়দ এ.জেড.এম.মিলাদুল হুদা, বিআরটিএ’র সহকারী পরিচালক আলতাব হোসেন, সিরাজগঞ্জ বাস মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল সালাম বক্স, সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি, জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাভাপতি সুলতান মাহমুদ তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক আনসার আলীসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য  সিরাজগঞ্জের দুটি বাস চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ জেলার রুটে চলাচল নিয়ে গত য় কয়েকদিন ধরে বগুড়া ও রাজশাহী জেলার পরিবহন নেতাদের সঙ্গে সিরাজগঞ্জের নেতাদের দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। বুধবার সিরাজগঞ্জের একটি বাস নওগাঁয়  যাওয়ার সময় বগুড়ায় আটকে রাখা হয়। এ ঘটনায়  জের ধরে বুধবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকাগামী বাসগুলো সিরাজগঞ্জের চান্দাইকোনা এলাকায় আটকে দেন সিরাজগঞ্জের বাস মালিক ও শ্রমিকেরা।  অন্যদিকে ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলার উদ্দেশে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে যাত্রী নিয়ে আসা বগুড়া মালিক সমিতির কয়েক শ' বাস সিরাজগঞ্জে এসে বাধার মুখে পড়ে। আকস্মিক এ ঘটনায় চরম দুর্ভোগের পড়েন যাত্রীরা। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ও মিমাংসার আশ্বাসে বেলা আড়াইটার দিকে বাস চলাচল ফের শুরু হয়। আট ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকাগামী দূরপাল্লার বাস চলাচল আবারও শুরুর হলে যাত্রীদের বিড়ম্বনা বাড়ে।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় সন্মেলনের স্বার্থে আগামী ২৫ অক্টোবর বা আরও পরে বিভাগীয় কমিশনারের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে আন্তঃজেলা পরিবহন নেতাদের সঙ্গে আলোচনার আশ্বাসে সিরাজগঞ্জ জেলার পরিবহন নেতারা বিষয়টির সুরাহায় রাজি হন। দ্বিতীয় দফা বৈঠকের আগ পর্যন্ত এই কয়দিন কোনভাবেই মহাসড়কে উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকাগামী দূরপাল্লার বাস চলাচলে বাধা না দিতে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার পরিবহন নেতাদের সতর্ক করেন।

এর আগে সিরাজগঞ্জ বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি বলেন, ‘বগুড়া ও রাজশাহী থেকে শত শত বাস মহাসড়ক দিয়ে সিরাজগঞ্জ জেলার ওপর দিয়ে ঢাকায় যায়। তখন ওইসব জেলার মালিক সমিতির লোকজন আমাদের অনুমতি নেওয়া দূরের কথা, সাধারণভাবে আলোচনারও কোনও প্রয়োজন মনে করেন না। অথচ আমরা দু’একটি বাস চাঁপাইনবাবগঞ্জ বা নওগাঁ রুটে চালাতে গেলে তাদের যত টালবাহানা শুরু হয়।’

সিরাজগঞ্জ বাস মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুস সালাম বলেন, ‘দু’টি বাস নওগা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ রুটে দেওয়ার জন্য আমরা বগুড়া ও রাজশাহী মালিক সমিতির নেতাদের কাছে ১৮ মাস আগে আবেদন করেছি, কিন্তু আজ পর্যন্ত তার কোনও সাড়া মেলেনি।’

মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সুলতান মাহমুদ তালুকদার বলেন, ‘আমরা কি তাদের হাতে জিম্মি। প্রতিবারই আমাদের ওপরই যত দোষ চাপিয়ে দেওয়া হয়। প্রশাসন বগুড়া বা রাজশাহী মালিক সমিতির লোকজনকে ধরতে পারে না।’

সাধারণ সম্পাদক আনসার আলী বলেন, ‘আমরা তো অবরোধ করিনি। বগুড়ায় সিরাজগঞ্জে গাড়ি আটকানোর কারণে আমরা ঢাকাগামী বগুড়ার গাড়ি ঘুরিয়ে দিয়েছি মাত্র।’

আরও পড়ুন- 


জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসা বোর্ডের রশি টানাটানিতে বিপাকে শিক্ষার্থীরা

/এফএস/