বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে এ জেলায় ৬২ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি হেক্টরে ফলন ধরা হয়েছে ১৯ মেট্রিক টন আলু। প্রতি হেক্টর জমিতে আলু বীজ লাগে দেড় মেট্রিক টন। এ হিসেবে বগুড়া জেলায় এবার ৯০ হাজার মেট্রিক টন আলুর বীজ প্রয়োজন। এ চাহিদার ১৫-২০ শতাংশ বিএডিসি, ১৫-২০ শতাংশ ব্র্যাক, লালতীরসহ বিভিন্ন এনজিও এবং অবশিষ্ট কৃষকরা যোগান দেন।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফরিদুর রহমান জানান, কৃষকরা আগেই আলু বীজের বুকিং দিয়ে রাখেন। সবাই এক সঙ্গে বীজ কিনতে শুরু করায় কিছুটা সংকট দেখা দিতে পারে। তবে সবমিলিয়ে এবার আলু বীজের সংকট হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
জেলার সদর, কাহালু, সারিয়াকান্দিসহ বিভিন্ন উপজেলায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আমন ধান কাটা প্রায় শেষ পর্যায়ে থাকায় কৃষকরা ওই জমিতে আলু চাষের প্রস্তুতি নিয়েছেন। অনেকেই জমি প্রস্তুত করেছেন। তবে চাহিদামত আলু বীজ না পাওয়ায় কৃষকরা রোপন করতে পারছেন না।
বগুড়া সদরের মহিষবাথান গ্রামের কৃষক সিরাজুল ইসলাম, মোখলেসুর রহমান, ডেকরা গ্রামের সোহেল প্রামাণিক, শাহাজাহান আলী, কাহালুর মালঞ্চা গ্রামের আরশাদ আলী প্রমুখ চাষী জানান, ধান কাটার পরপরই প্রায় এক সপ্তাহ আগে আলু বীজ রোপনের জন্য তারা জমি প্রস্তুত করেছেন। কিন্তু সংকটের কারণে বীজ কিনতে পারেননি। বীজের জন্য ডিলারদের দোকানে ধরনা দিচ্ছেন। ডিলাররা বলছেন, বীজ এলেই পাওয়া যাবে।
চাষীদের কেউ কেউ অভিযোগ করছেন, টাকা বেশি দিলেই বীজ পাওয়া যাচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, জেলার অধিকাংশ ডিলার অগ্রিম টাকা দিয়ে এনজিওগুলোর কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন। এরা সিন্ডিকেট গড়ে তুলে দাম বৃদ্ধি করতে বাজারে আলু বীজের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছে। এতে কৃষকরা বিপাকে পড়েছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক আবদুর রহিম বলেন, বর্তমানে আলু বীজের সংকটের কথা শোনা গেলেও শিগগিরই তা থাকবে না। চাষীরা হিমাগারে প্রচুর পরিমাণ বীজ মজুদ রেখেছেন। সেখান থেকে বাজারে বীজ এলেই সংকট কেটে যাবে। তবে বীজ সংকটে কোনও সিন্ডিকেট জড়িত কিনা সে সম্পর্কে তিনি কিছু বলতে পারেননি।
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) বগুড়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক গোলাম সারওয়ার জানান, বগুড়া অঞ্চলে ৩৭২ জন ডিলার রয়েছে। বগুড়া ও জয়পুরহাট জেলার জন্য আট হাজার মেট্রিক টন আলু বীজের চাহিদা পাঠানো হয়েছিল। বরাদ্দ এসেছে তিন হাজার ১০০ মেট্রিক টন।
তিনি আরও জানান, বিএডিসির গ্রানুলা জাতের এ গ্রেডের প্রতি কেজি বীজ আলুর দাম ২৪ টাকা ও বি গ্রেড ২৩ টাকা। অ্যাস্টিরিক জাতের এ গ্রেডের প্রতি কেজি বীজ ৩০ টাকা ও বি গ্রেডের ২৮ টাকা দাম পড়বে।
তিনি জানান, ডিলাররা নির্ধারিত দরে বিক্রি না করলে বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সির কর্মকর্তারা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন। প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও ডিলারশিপ বাতিল করা হবে।
/এআর/